প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ জামাদের জন্তে তুমি যা করেচ ঠাকুরপো, তাতে আমি বুক চিরে পা ধুইয়ে দিতে গেলেও ত তোমার আপত্তি করা সাজে না । আর এই দুটো খাবার তৈরী করে দেওয়ার কথাতেই ঘাড় নাড়চ ? ছি, ছি, কি আমাদের তুমি ভাবে বল ত? মাহুৰ মই আমরা? না, মানুষের রক্ত আমাদের দেহে বয় না ! - উপেন্দ্র অত্যন্ত লজ্জিত ও কুষ্ঠিত হইয়া বলিল, এ-সব কোন কথা ভেবেই জামি আপত্তি করতে যাইনি বৌঠান। আমি শুধু— - শুধু কি ঠাকুরপো ? তবে বুঝি ঘরে ফেরবার তাড়ায় কি বলচি ন ৰলচি হ’ল ছিল না ? উপেন্দ্র বাচিয়া গেল। পরিহাস আবার সহজপথে ফিরিয়া জালায় সে খুশী হইয়া সহস্তে কহিল, ও বদনামটা আমার আছে ৰটে বৌঠান, সে আমি অস্বীকার করতে পারিনে। কিন্তু এখন সে জন্ত নয়। যথার্থই আমি ভেবেছিলুম, আজ আপনি বড় ক্লাস্ত হয়ে পড়েছেন । - - ক্লান্ত হয়ে পড়েছি ? হলুমই বা । বলিয়া কিরণময়ী পুনরায় একটু হাসিল । তার পরে সহসা গভীর হইয়া কহিল, হায় রে । আজ যদি আমার সতীশ ঠাকুরপো থাকতেন ! তা হলে নিজের কথা আর নিজের মুখে বলতে হ’তে না । তিনি সহস্ৰবদন হয়ে বক্তৃতা শুরু করে দিতেন। না ঠাকুরপো, আমার নিজের ত ও সব প্রাঙ্কি-ক্লাস্তির সখ করবার অবস্থাই নয় ; তা ছাড়া, বাঙালীর ঘরের কোন মেয়ের পক্ষেই ও বদনামটা বোধ করি খাটে না । আত্মীয়ই হোক আর অনাস্ট্রীয়ই হোক, পুরুষমাহুষের খাওয়া হয়নি শুনলে বাঙালীর মেয়ে মরতে বসলেও একবার উঠে দাড়ায়। তা জানো ? . . * * * উপেন্দ্রও এবার হাসিয়া কহিল, জানি বৈ কি বৌঠান, বেশ জানি, স্বীকার করচি অপরাধ হয়েচে—অার না। ক্ষিদেও পেয়েচে, চলুন কি খেতে এসো, বলিয়া কিরণময়ী পথ দেখাইয়া রান্নাঘরের অভিমূখে চলিল। শাশুড়ীর ঘরের স্বমুখে আসিয়া দোর ঠেলিয়া উকি মারিয়া দেখিল তিনি অকাতরে রাঙ্গারে জালিয়া সতীশকে যেমন পিড়ি পাতিয়া বলাইত, তেমনি করিয়া উপেন্দ্রকে কি উমুন জালিয়া দিয়া অন্যান্য আয়োজন করিতে বাহির হইয়া গেলে কিরণময়ী প্তাহার এই নূতন অতিথিটির প্রতি চাহিয়া কছিল, আচ্ছা ঠাকুরপো, আমার কষ্ট দরে বলে না খেয়ে চলে যাবার এই ৰে প্ৰস্তাবটি করেছিলে, সেটি যদি আর কৌশল্প erלל