প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ । গেলে, সে অপেক্ষাকৃত স্বস্থ হইয়া উঠিয়া বসিল এবং কোন কথা না বলিয়া দরজা খুলিয়া আস্তে আস্তে বাহির হইয়া গেল। জাহাজ তখন নদীর তীর ঘে"সিয়া জাকিয়া বাকিয়া মাটি বাচাইয়া, জল মাপিয়া মন্দগতিতে সমুদ্রের অভিমুখে চলিয়াছে এবং ছোটবড় জেলেডিঙ্গি ও মাল-বোঝাই নৌকার ক্ষুদ্র যাত্রীরা মস্ত জাহাজের মস্ত মৰ্য্যাদা রক্ষা করিয়া তফাৎ দিয়া অতি সাবধানে বহিয়া যাইতেছে। দিবাকর রেলিংয়ের পার্থে একটা চৌকি টানিয়া লইয়া পুনরায় বসিয়া পড়িল এবং দূরে অদূরে, জলে স্থলে ঘাহা কিছু তাহার চোখে পড়িত লাগিল, তাহারই কাছে মনে মনে অত্যন্ত বেদনার সহিত চিরবিদায় গ্রহণ করিতে করিতে অস্তরের অসহ দুঃখ অন্তৰ্য্যামীকে নিবেদন করিয়া দিতে লাগিল । কিছুক্ষণে আবার কেবিনের মধ্যে ডাক পড়িল । কিরণময়ী বলিল, বেলা অনেক হ’লো, স্নান করে এস । আমি ততক্ষণ তোমার খাবার ঠিক করে রাখি । সে নিজে এইমাত্র স্নান করিয়া লইয়াছিল। পিঠের উপর আর্দ্র চুলের রাশি ছড়াইয়া দিয়া কেবিনের মেঝেতে বসিয়া হাড়ির মুখ খুলিয়া কি কতকগুলো আহার্ষ্যসামগ্রীর জমা-খরচের হিসাব করিতেছিল। রাতের মধ্যে সে ঝিকে দিয়া এই সমস্ত সংগ্ৰহ করিয়া লইয়াছিল। দিবাকর জবাব দিল, তুমি থাও, আমার কিছুমাত্র ক্ষিদে নেই বৌদি। কিরণময়ী মুখ তুলিয়া চাহিল। বলিল, সে হবে না। তুমি না খেলে আমারও খাওয়া হবে না। তুমিই এখন আমার সৰ্ব্বস্ব—তোমাকে না খাইয়ে আমি কিছুতেই খেতে পারব না । কথা শুনিয়া দিবাকর লজ্জায় মরিয়া গেল এবং কোনো কথা না বলিয়া বাহিরে চলিয়া বাইতে উষ্ঠত হইতেই কিরণময়ী ধরিয়া ফেলিয়া বলিল, এ ষে সপ্তরণীর বহি ঠাকুরপো, পালাচ্চ কোথায় ? প্রবেশের পথ আছে, কিন্তু বার হবার পথ কি সবাই জানে ? যদি সে ইচ্ছেই ছিল, এ বিদ্যে তোমার উপীনদাদার কাছ থেকে শিখে নাওনি কেন ? একটুখানি মৌন থাকিয়া কহিল, তামাসা নয় ঠাকুরপো, আমার অবাধ্য হয়ে নী—স্বান করে এসে কিছু খাও, তার পরে বাইরে রেলিং ধরে যত খুশি কেঁদো, আমি আপত্তি করব না । কিন্তু এও বলে রাথি ঠাকুরপো, চোখের জলের এর পরে বিস্তর প্রয়োজন হবে, অপ্রয়োজনে বাজে খরচ করে তখন যেন আপশোস করতে नीं श्नः । দিবাকর জবাব দিল না। আগন্তুক দিনের এই নিষ্ঠুরতম পরিণামের ইঙ্গিত ২৪৬