প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এই কাল্পনিক চিত্রের স্বণিত পরিকল্পনা দিবাকরকে ঠেলিয়া তুলিয়া দিল এবং কিরণময়ীর বন্ধন-পাশ হইতে নিজেকে সজোরে মুক্ত করিয়া টলিতে টলিতে সে স্বয় হইতে বাহির হইয়া গেল । ു ডেকের উপর একখানা চৌকির উপরে বসিয়া পড়িয়া সে একদৃষ্টি চাহিয়া রছিল। বুকের ভিতরটায় যে কি রকম করিতে লাগিল, তাহাকে অস্পষ্টভাবে অনুভব করা ভিন্ন বুদ্ধিপূর্বক হৃদয়ঙ্গম করিবার শক্তি তাহার ছিল না। জাহাজের গায়ে উদ্ধাম তরঙ্গ উন্মাদের মত বাপাইয়া পড়িতেছে, চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া কোথায় মিলাইয়া যাইতেছে, আবার ছুটিয়া আসিয়া আবার মিলাইতেছে—এমনি করিয়া আঘাত অভিঘাতের আশ্চৰ্য্য খেলা, দিবাকর আত্মবিশ্বত হইয়া দেখিতে লাগিল । উপরে পূর্বদিকের আকাশে দিগন্ত হইতে ধুসর মেঘ পাহাড়ের মত জমাট বাধিয়া উঠিতেছিল এবং তাহার পশ্চাতে তরুণ স্বৰ্ষ্য উঠিল কি না, রশ্মির একটি রেখাও সে সংবাদ নীচে বহন করিয়া আনিবার পথ পাইল না । পরক্ষণেই ডেকের উপরে খালাসীরা ব্যস্ত হইয়া যাতায়াত করিতে লাগিল এবং উপরে কাপ্তানের ঘণ্টা মূহুমূহ শদিত হইয়া উঠিতে লাগিল। ঝড়ের বেগ যে উত্তরোত্তর বাড়িয়া উঠিতেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়িবে, এ ইঙ্গিত আকাশের মেঘ ও সিন্ধুর তরঙ্গ ত্রীজের কাপ্তান হইতে নীচের কামিনী বাড়িউলি পৰ্য্যন্ত সকলের কাছেই মুম্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করিয়া দিল। এমন সময় একজন খালাসী আসিয়া কহিল, বাবু, বৃষ্টি পড়তে আর দেরি নেই, বড়জলে বাইরে বসে কেন কষ্ট পাবেন, কেবিনে যান। দেখুন, সেখানে এতক্ষণ হয়ত বা কি হচ্ছে ! দিবাকর উদ্বিগ্ন হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, কি হয়েছে সেখানে ? খালাসী চট্টগ্রামবাসী মুসলমান। হাসিমুখে দুৰ্ব্বোধ্য উচ্চারণে বলিল, কিছু হয়নি। কিন্তু জাহাজ ভারি দুলচে কি না—তাই বলচি বাৰু, গিয়ে দেখুন, মেয়ের কি কচ্ছেন। এত স্থলানি সহ করা ভারী শক্ত। দিবাকর উঠিয়া দাড়াইয়াই বুঝিল, খালাসির কথা অত্যন্ত সত্য। টলিয়া পড়িতেছিল, সে ধরিয়া ফেলিয়া বলিল, চলুন বাবু, আপনাকে দিয়ে আসি। ইহারই সাহায্যে কোনক্রমে দিবাকর কেবিনের ৰায় পৰ্য্যস্ত আসিয়া পৌঁছিল। দ্বার ঠেলিয়া ভিতরে গিয়া দেখিল কিরণময়ী বিছানা ছাড়িয়া পাশের লোহার বেঞ্চের উপর উপুড় হইয়া পড়িয়া তাহারই একপ্রান্ত জোর করিয়া চাপিয়া ধরিয়া আছে। দিবাকর শিয়রের কাছে গিয়া বসিল, বলিল, কষ্ট হচ্চে বৌদ্ধি ? रेé२