প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সহিত্য-সংগ্ৰহ ছিড়িবেই ছিড়িবে, এই ছদ্ম-লীলা একদিন ষে কিছুতেই ভাল লাগিবে না, ডাক্তার অনজমোহন সে-শিক্ষা ভাল করিয়াই দিয়াছিল। সেই দুদিনেই যে প্রাণান্তকর ঘৃণার ফাস কাটিয়া কাটিয়া তাহার গলায় বলিতে থাকিবে, সে দড়িটা যে সে কোন অস্ত্রে কাটিয়া ফেলিবে এ দুশ্চিস্তার সে কোথাও শেষ দেখিতে পায় নাই। কিন্তু, কাল গভীর রাত্রে উপেন্দ্রর রাজসিংহাসন-তলে বসিয়া উভয়ের সন্ধিপত্র যখন স্বাক্ষরিত হইয়া গেল, তখন ঘুম ভাজিয়া এই নিরীহ ছেলেটার জন্তই করুণায় ব্যথায় কিরণময়ী একদিকে যেমন পীড়িত হইয়া উঠিল, এই অবশুম্ভাবী ঘৃণার বিভীষিক হইতে মুক্তি পাইয়া তেমনি হাফ ছাড়িয়া বঁচিল । একলা ঘরের মধ্যে বসিয়া সে নিশ্বাস ফেলিয়া বারংবার এই কথাই বলিতে লাগিল, আর আমার ভয় নেই—আমার কোন ভয় নেই। যাকে ভালবাসতে পারব না, অন্ততঃ স্নেহ দিয়েও তার মনের কালি অনেকখানি মুছে দিতে পারব। তথাপি একটা ভয় তাহার মনের মধ্যে উকি মারিতে লাগিল,—পাছে অগ্নির প্রলোভন সংবরণ করিতে না পারিয়া একদিন দিবাকর পতঙ্গের মত পুড়িয়া মরিতে বদ্ধপরিকর হইয় উঠে । তাহার রূপের আকর্ষণের যে কি দুনিবার শক্তি, ইহা ত তাহার । অবিদিত ছিল না। - মনে পড়িল তাহার স্বত স্বামীর কথা । সেই শুষ্ক কঠোর মূৰ্ত্তিমান বিস্তার অভিমান। বিজ্ঞানের শক্ত বেড়া দিয়া ৰিনি অত্যন্ত সতক হইয়া দিবারাত্র নিজের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করিয়া চলিতেন—সেই স্বামী । তাহার কাছে সে ত একদিনও ঘাইতে পারে নাই, তবু ত দিন কাটিয়াছিল। লিখিয়া পড়িয়া, ভাত স্বাধিয়া, শাশুড়ীর বকুনি খাইয়া, ঘরের কাজ-কৰ্ম্ম করিয়া দিনের-বেলা কাটিত ; রাত্রে পরকালের বিরুদ্ধে, আত্মার বিরুদ্ধে লড়াই করিয়া, নালিশ করিয়া, গ্লানি করিয়া, ব্যঙ্গ করিয়া, ঘরের দেওয়ালগুলো পৰ্য্যন্ত দূষিত বিষাক্ত করিয়া দিয়া ক্লান্ত জঞ্জর হইয়া কোন এক সময়ে ঘুমাইয়া পড়িত ; আবার প্রভাত হইত, আবার রাজি আসিত, এমনি করিয়া মাসের পর মাস, বৎসরের পর বৎসর গড়াইয়া গিয়াছিল। বাড়িতে ভিক্ষ দাও মা, বলিয়া ভিখারী প্রবেশ করে নাই। কেমন আছ, বলিয়া প্রতিবেশী সংবাদ লয় নাই ; একদিনের জন্ত স্বর্ঘ্যের কিরণ আলো ফেলে নাই, একমুহূর্তের জন্য আকাশের বায়ু পথ ভুলিয়া প্রবেশ করে নাই,—তৰু দীর্ঘ দশ বৎসর গত হইয়াছিল। তাহার মাবাপের কথা মনে পড়ে না। শুধু মনে পড়ে, বালিক-বয়সে কালনার কাছে একটা ক্ষুদ্র গ্রামের কোন এক নিরানন্দ মাতুল-সংসার হইতে বাহির হইবা একদিন বৰুৱ সঙ্গায় এই অন্ধকার বাড়িটাতে আসিয়া প্রবেশ করিয়াছিল। স্বামী ছোট ছাত্ৰীটির মত তাহাকে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সেই অবধি সেদিন পৰ্য্যস্ত গুরু-শিকার কঠোর ইণ্ড২