প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কি করিত ; তাছার অপদস্থ ক্রুদ্ধ অন্তঃকরণ নিরস্তর এই তিক্ত প্রশ্নে সাবিত্রীর অপেক্ষাও তাঁহাকে অধিকতর নিষ্ঠুরভাবে অবিশ্রাম বিধিতে লাগিল। এমনি করিয়া সারাদিন সে নিজের অস্ত্রে নিজে ক্ষত-বিক্ষত হইয় দিন-শেষে গঙ্গার ধারে আসিয়া উপস্থিত হইল এবং কোনমতে খেয়ার মাঝিদের বিনীত আক্রমণ এড়াইয়া নিজীবের মত একখও পাথরের উপর গিয়া বসিয়া পড়িল । কাল যখন সাবিত্রীর কাছে মনের দুর্কলতা হঠাৎ প্রকাশ হইয়া পড়ায় লজ্জায় বাসা হইতে উৰ্দ্ধশ্বাসে পলাইয়াছি, তখন সে লঙ্গর মধ্যে কেমন করিয়া যেন একটু মাধুর্ঘ্য মিশিয়াছিল। কে যেন আড়ালে থাকিয় অংশ লইয়াছিল। কিন্তু আজ সাবিত্রীর বিক্রপের বহিতে সেই রসের লেশটুকু পৰ্যন্ত শুকাইয়া গিয়া নিঃসঙ্গ লজ্জা একেবারে শুষ্ক কঠিন হইয়া তাহার বুকের মধ্যে আড় হইয়া বাধিল । সেদিন তাহার আত্মসন্ত্রম শুধু মাখ ষ্টেট করিয়াছিল, আজ তাহার ঘাড় ভাঙ্গিয়া পড়িল । আবার সবচেয়ে বাজিতে লাগিল এই দুঃখটা যে, এই স্ত্রীলোকটিকে সে যতদিন যত পরিহাস করিয়াছে, তাহার সমস্তরই আজ একটা কদৰ্থ করা হুইবে । কাল সকালবেলা পৰ্য্যন্ত সত্যই যে তাহার পরিহাসের মধ্যে রহস্য ভিন্ন দ্বিতীয় অর্থ ছিল না, নির্জন মধ্যাহের ওইটুকু অসংযমের পরে সে-কথা ত মুখে আনিবারও আর পথ রছিল না। আসক্তি যে বহুদিন হইতে লুকাইয়া অপেক্ষা করিয়াছিল না, এ কথা ত সাবিত্রী কোন মতেই বিশ্বাস করিবে না । সে বলিবে, এর মনে এই ছিল ! কিন্তু তাহার মনে ত কিছুই ছিল না। এই সত্যটা বুঝাইয়া বলিবার সময় স্থযোগ তাহার কবে মিলিবে ? সে সৎ ছেলে নয়, সে লজ্জাও তাহার খুব বেশি ছিল না, কিন্তু ভণ্ডামির অপবাদ সহ করিবে সে কি করিয়া ? সে মনে মনে বলিল, যদি চোর, তবে চোরের মত সিদকাঠি হাতেই ধরা পড়িল না কেন ? সাবিত্রী যেন মনে মনে হাসিয়া বলিবে, এই সাধু জটা-কমতুল পিঠে বাধিয়া ত্রিশূল দিয়া সিদ খুড়িতেছিল—ধরা পড়িয়াছে। এই অপবাদের কল্পনা তাহাকে দগ্ধ করিতে লাগিল। এমনিভাবে বসিয়া কখন যে রাত্রি বাড়িয়া উঠিল, সে জানিতে পারিল না। কখন ভাট শেষ হইয়া জোয়ারের জল পায়ের কাছে উঠিয়াছে, কখন কলিকাতার অন্ধ্ররঞ্জ গ্যাসের আলোয় উজ্জল হইয়া উঠিয়াছে, কখন মাথার উপরে আকাশ কালো হইয়া নক্ষত্র ফুটিয়াছে, কিছুই সে টের পায় নাই। শীতের জোলো হাওয়ায় তাহার শীত করিতে লাগিল এবং ওপারের চটকলের ঘড়িতে বারটা বাজিয়া গেল। তখন সতীশ উঠিয়া পড়িয়া বাসার অভিমুখে চলিল। এই সময়টায় কিছুক্ষণের জন্ত বোধ করি, সে তাহার কাল্পনিক আশঙ্কাটা ভুলিয়াছিল ; কিন্তু চলিতে চলিতে বাসার দূরত্ব যতই হ্রাস পাইতে লাগিল, মন তাহার পুনৰ্ব্বার সেই অনুপাতে ছোট্ট হইয়া আসিতে লাগিল। অবশেৰে গলির মোড়ের কাছে չԵ՛