প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৩১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সতীশের সহিত র্তাহার সম্বন্ধ ছিল না বলিলেও অন্যায় হয় না। পিতার মতুতে অর্ধেক শরিক হইয়। সে দাদার আরও বিষদৃষ্টিতে পড়িয়াছে। বলিলেন, এর মধ্যেই প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকা খরচ করে মস্ত দুই ডিসপেনসারি খুলেচে, একশ টাকা মাইনে দিয়ে এক ডাক্তার এনেচে, তা ছাড়া বাড়িটাকে পর্য্যন্ত হাসপাতাল করে তুলেচে। উপেন্দ্র সহজভাবে বলিল, ই, এ-মতলব তার অনেকদিন থেকেই ছিল, শুধু টাকার অভাবেই এতদিন পারে নি বোধ করি । টুম্বাবু মেধ করিয়া একটু হাসিয়া কহিলেন, সে তে আমিও বোধ করি হে উপীন। কিন্তু, শুধু ডিসপেনসারি খোলার মতলবই ত তুমি জানতে, কিন্তু তার সাধন-ভজনের মতলবট ত আর জানতে না ভায়া । উপেন্দ্র আশ্চৰ্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, সাধন-ভজন কি রকম ? টুম্বাবু বলিলেন, এই যেমন চক্র, কারণ, পঞ্চ ম-কার ইত্যাদি। শুধু ফিলানখপিস্ট নয় হে, সতীশস্বামী এখন একজন উচুদরের সাধক। গেরুয়া বসন, বড় বড় চুল-দাড়ি, রুদ্রাক্ষ-মালা, কপালে সিদ্বরের ফোটা—সদাই ঘূর্ণিত লোচন! তার একটা সই নেবার জন্যে রাসবিহারীকে পাঠিয়েছিলাম, সে ত ভয়ে দু'দিন কাছেই ঘে সতে পারেনি—আর এই চিঠিখান পড়ে দেখ, তার চাকর বেহারী আমাকে লিখে পাঠিয়েচে—জবাব দেওয়া এখনো হয়নি, তাই পকেটে পকেটেই ঘুরচে, বলিয়াই তিনি একখানা হলদে রঙের ভাজকরা কাগজ বাহির করিয়া উপেন্দ্রর সম্মুখে রাখিয়া দিলেন । নিরুপায় বেহারী সতীশের অগ্রজের কাছে উপায় ভিক্ষা করিয়া এই পত্রখানি পাঠাইয়াছে। খুব সম্ভব, সে গ্রামের কোন অজ্ঞ বালককে ধরিয়া পত্রখানি লিখাইয়া লইয়াছে । আগাগোড় চিঠিখানি পড়া গেল না বটে, কিন্তু যতটুকু গেল, ততটুকু উপেন্দ্রকে বহুক্ষণের নিমিত্ত স্তম্ভিত করিয়া রাখিল । তাহার আবাল্যস্কন্ধ, তাহার ডান হাত, তাহার ছোট ভাই—সেই সতীশ জাজ অধ:পাতের এতই নিম্নস্ত-র নামিয়া গিয়াছে যে, গ্রামের মধ্যে প্রকাতে এই সমস্ত বীভৎস কীৰ্ত্তি করিয়া বেড়াইতে লজ্জা বোধ ত করেই না, বরঞ্চ ধৰ্ম্মসাধন করিতেছে মনে করিয়া আত্মপ্রসাদ লাভ করিতেছে। হয়ত সে কুলটা দাসীটাও সঙ্গে যোগ দিয়াছে। তা ছাড়া, বেহারীর পত্রের ভাবে ইহাও বুঝা যায় যে, গ্রামের নিষ্কৰ্ম কয়েকজন লোকও তাহার সঙ্গে জুটিয়াছে। জন্তমনস্ক হইয়া উপেক্স চিঠিখানা পকেটে পুরিয়া আদালত হইতে বাড়ি ফিরিয়া আসিল, টুমুবাবুকে ফিরাইয়া দিবার কথা তাহার মনে পড়িল না ।