প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৩১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰন্থ নীচ দি কারণের ঘরের পাশের ঘরে রেখে দিতে মা ছকুম দিয়েচেন । তুমি সেইখানে থাকবে। - 峻 ‘বাবা’র উগ্রতা প্রকাশ পাষ্টল না। তিনি শাস্তভাবে প্রশ্ন করিলেন, মা কে বেহারী ? বেহারী কটকণ্ঠে জবাব দিল, সে খোজে তোমার দরকার কি ঠাকুর ? যা বলটি তাই কর,—নীচে যাও । মনে মনে কহিল, কে তা টের পাবে। বিনি পয়সার মদগাজা খেয়ে খড়ম মারা তোমার কাল আমি বার করব । সকলেই হতবুদ্ধির ন্যায় পরস্পরের মুখ চাওয়া চাওরি কবিয়া উঠিবার উপক্ৰম করিল। কেহই বুঝিতে পারিল না বটে, কিন্তু আদেশ যখন সত্যকার আদেশরূপে অকুষ্ঠিত স্বরে বাহির হইয়া আসে, তা সে যাহারই মূখ দিয়া আস্বক, মানুষ কেমন করিয়া যেন নিশ্চয় অকুভব করিতে পারে, ইহা অগ্রাহ করা চলিবে না। বেহারী রান্নাঘরে জাসিয়া দেখিল, সাবিত্রী বামুনঠাকুরকে দিয়া দুধ জাল দিবার উদ্যোগ করিতেছে । কহিল, রাত হয়ে গেল, তোমার ত এখনও পর্য্যন্ত স্নান-আছিক হয়নি মা । সারাদিন গাড়িতে একফোট জল পৰ্য্যন্ত খাওনি,—চল, জাগে তোমাকে স্বানের জায়গা-টায়গাগুলো দেখিয়ে দিয়ে আসি, ততক্ষণ বাবুর দুধটুকু জাল দেওয়া কয়ে যাবে এখন । বলিয়া সাবিত্রীকে একরকম জোর করিয়া লইয়া গেল । তাহাকে পাঠাইয়া দিয়া বেহারী বাবুর জন্ত তামাক সাজিয়া গুড়গুড়িটি হাতে করিয়া নিঃশবো দ্বার ঠেলিয়া বাবুর ঘরে ঢুকিল । সতীশ চুপ করিয়া পড়িয়া ছিল, চোখ মেলিয়া কছিল, কে বেহারী ? ই বাবু, তামাক সেজে এনেচি । জায় । সে কোথায় রে ? বেহারী কহিল, এখন পৰ্য্যস্ত একফোটা জল মুখে যায়নি। তাই জোর করে চান করতে পাঠিয়ে দিয়ে তবে আসচি বাবু। সতীশ কহিল, বেশ করেছিল। কিন্তু তোকে আমি খুজছিলাম বেহারী । বেহারী ব্যস্ত হইয়া উঠিল—কেন বাবু দেহটা এখন কেমন আছে ? সতীশ মাখা নাড়িয়া বলিল, ভাল নেই বেহারী । তোকে তাই আমি খুজিছিলাম। দোরটায় খিল দিয়ে আমার কাছে এসে একটু ব’স । বেহালী দ্বার রুদ্ধ করিয়া শক্ষিত-চিত্তে গ্ৰন্থর পায়ের কাছে আসিয়া মেষের উপর উৰু হইয়া বসিল । সতীশ জিজ্ঞাসা করিল, আচ্ছ বেহারী, তুই ফাড়া মানিল ? Woes