প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৩২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কাছে না থাকলে পৃথিবীর সমস্ত লোক বাবুর বিছানা ঘিরে থাকলেও ত তাকে বঁাচাতে পারা যাবে না, সে-কথা কেন ভেবে দেখনি মা ! সাবিত্ৰী কছিল, ভেবেচি বেহারী । আমি বাড়ির যেখানে হোক মুকিয়ে থেকে আমার কাজ করতে পারব, কিন্তু উপানবাবুর যে না এলেই নয়! তা ছাড়া আমি মেয়েমানুষ, এ বিপদের কতটুকু ভাল-মন্দই বা বুঝি ! না বেহারী, তিনি জাম্বন। বেহারী ঘাড় নাড়িতে নাড়িতে কহিল, উপীনবাবুর কথা জানিনে মা, কিন্তু বাবুর কথা জানি। নিৰ্ব্বোধ বটে, কিন্তু এই বাট বছর ধরে সংসারটা ত দেখছি ? কটা পুরুষমানুষ তোমার চেয়ে ভাল-মন্দ বেশী বোঝে মা ? তা সে যাই হোক, তুমি কাছ থেকে সরে গেলে এ-যাত্রা বাবুকে যে ফেরাতে পারব না, এ-কথা আমি তোমার পাছয়ে পৰ্যন্ত দিব্যি করে বলতে,পারি। এমন কাজ কোরো না মা, তুমি আমার বাবুকে ছেড়ে আর কোথাও পালিয়ে থেকে না। এ কথা বেহারীর চেয়ে সাবিত্রী যে কম জানিত তাহ নহে, কিন্তু চুপ করিয়া রহিল । তাহাকে হাতের কাছে না পাইলে সতীশের ব্যাকুলত যে কতখানি বাড়িযে, সে সতীশই জানে ; কিন্তু এই নিদারুণ রোগশয্যায় সতীশকে চোখের আড়াল করিয়া সাবিত্র আপনিই বা বাচিবে কি করিয়া ? তাহাদের প্রতি উপেন্দ্রর ঘৃণা তাহার অবিদিত ছিল না । তিনি আসিলে তাহাকে আত্মগোপন করিতেই হইবে, তাহাতে লেশমাত্র সংশয় নাই—সমস্তই সে মনে মনে আলোচনা করিয়া দেখিয়াছিল, কিন্তু যাহার জন্য এতদিন এত দুঃখ সহিয়াছে, তাহার জন্য এ দুঃখও সহিবে ; এই মনে করিয়াই সে উপেক্সকে পীড়ার সমস্ত বিবরণ খুলিয়া লিখিয়া, আসিবার জন্ত অনুরোধ করিয়াছিল । সাবিত্রী দৃঢ়কণ্ঠে কহিল, না বেহারী, সে হতে দিতে পারব না। তিনি পরস্তর মধ্যে না এসে পড়লে, তোমাকে নিজে গিয়ে তাকে আনতে হবে। বেহাল্পী মানমুথেই কহিল, এ-কথা কেন বলচ মা ! আমি চাকর, আমাকে যা হুকুম করবে, তাই আমাকে করতে হবে । কিন্তু আমিও ত মাহুষ ! তোমার চোরের মত মুকিয়ে থাকা যদি কোনদিন সয়ে উঠতে না পারি মা, আমাকে গাল দিতে পারবে না, তা কিন্তু আগে থেকে বলে দিচ্চি, বলিয়া ক্ষুন্নচিত্ত্বে চলিয়া গেল । কিন্তু, সাবিত্রীর সে চিঠি উপেজয় হাতে পড়িল না। পিতা ও মহেশ্বরীর পুনঃ পুনঃ অনুরোধে সে মাস-খানেক পূৰ্ব্বে নিজের সম্পূর্ণ ইচ্ছার বিরুদ্ধেও জল-হাওয়া বদলাইতে পুী যাইতে বাধ্য হইয়াছিল। এখানে কাহারে সহিত পরিচয় ছিল ♥እ8