প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৩৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8२ অপরাহ্ল সাড়ে-পাচটায় কাঠের কারখানায় ছুটি হইলে দিবাকর আরাকানের একটা রাস্ত দিয়া চলিয়াছে । ধূলায় ধূলায়, করাতের গুড়ায় তাহার সর্বাঙ্গ সমাচ্ছন্ন । গলায় উত্তীয় নাই, পিয়ানখানি জীর্ণ মলিন, নানাস্থানে সেলাই করা, পরিধেয় বস্ত্র ও তদুপযুক্ত, ডান পায়ের জুতাটার গোড়ালি ক্ষইয়া একপেশে হইয় গেছে, বা পাযের বুড়া আঙ্গুলের ডগাটা জুতোর স্বমূখ দিয়া দেখা যাইতেছে —হঠাৎ দেখিলে যেন চেনাই যায় না,-সারাদিন পেটে অল্প নাই--এ অবস্থায় সে ধূকিতে পুঁকিতে কামিনী বাড়িউলির বাড়িতে আসিয়া উপস্থিত হইল । মাসিক চার টাকা ভাড়ায় নীচের তলায় একটি ঘরে তাদের বাসা । অপ্রশস্ত বারান্দাটির একধারে রান্না হয়, একধারে কাঠ ঘুটে জলের বালতি প্রভৃতি ঠেসাঠেসি করিয়া রাখা । দিবাকরের পায়ের শব্দে একটা ঘর হইতে বাড়িউলি বাহির হইয়া ঝঙ্কার দিয়া কহিল, আসা হ’লে ? তা বেশ, এ-সব কি তোমাদের । রান্না-বাড়া নেই, নাওয়া-খাওয়া নেই – কেবলি রাত-দিন ঝগড়া কিচি-কিচি, দাতের বাস্তি—এ যে আমাদের শুদ, লক্ষ্মী ছাড়িয়ে দেবার জো করলে তোমরা | দিবাকর মন-মুখে মাথ। ষ্টেট করিয়া রহিল । সে পুরবেলায় ভাত খাইতে আসিয়া কিরণময়ীর সহিত ঝগড়া করিয়া অমান অদ্ভূক্ত অবস্থাতেই পুনরায় তাহার কাজে ফিরেষ্টা গিয়ছিল ; এখন ছুটি হুইবার পরে বাসায় মাসিয়াছে । কিন্তু তাহার অবস্থা দেখিয়া বাড়িউলির রাগ পড়িল না ; সে পুনরায় কহিল, ও তোমার বিয়ে করা পরিবার নয় বাপু, যে, এত জোর-জুলুম নাগিয়েচ। বের করে যেমন এনেছিলে, সেও তেমনি ধৰ্ম্ম রেখেচে । এখন তোমারও যা হোক একটা চাৰুরিবাকরি ছায়চে—এইবার সরে যাও। আর কেন বাপু তাকে দুঃখ দেওয়া ! অমৰ্ম সোমত্ত মেয়েমাছধটা খাওয়া-পরা বিহনে একেবারে শুকনো কাঠ হয়ে গেল যে ! একটুখানি চুপ করিয়া কাহল, নইলে ওর ভাবনা কি ? মোড়ের মাথায় গোলদার মারাড়িবাৰু আমাকে নিত্যি লোক পাঠাচ্চে ৷ বলে সোনায় সৰ্ব্বাঙ্গ মুড়ে দেবে। আর তোমারি বা মেন্থেমাছুষের ভাবনা কি বাপু ? তাত ছড়ালে নাকি কাকের অভাব ! যাও, সরে যাও। আমার কথা শোন, ক'দিন থেকে বলচি, আর তোমাদের বনিবনাও হবে না। দিবাকর তাড়াতাড়ি বাধা দিয়া কছিল, থাৰু খাৰু, আমার কথায় কাজ নেই। কিন্তু ওঁরও কি তাই মত নাকি ? তুমিই তাহলে তার মমিশাই কি-না !