প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দ্বিতীয় ব্যক্তি একটুখানি সরিয়া দাড়াইয়া প্রশ্ন করিল, সতীশবাবু কোথায় ? সাবিত্ৰী নিঃশব্দে বিছানা দেখাইয়া বাহির হইয়া গেল। সে চলিয়া যাইতেই মাতাল দুইজন অট্টহাসি জুড়িয়া দিল। সে হাসির শব্দ ও অর্থ সাবিত্রীর কানে গিয়া পৌছিল এবং কম্বলের মধ্যে সতীশ বারংবার নিজের মৃত্যু কামনা করিতে লাগিল । তাহারা সতীশকে টানিয়া তুলিল এবং জোর করিয়া ধরিয়া লইয়া গেল ; এবং যতক্ষণ না তাহাদের বিকট হাস্যধ্বনি বাটার বাহিরে সম্পূর্ণ মিলাইয়া গেল ততক্ষণ পৰ্যন্ত সাবিত্রী একটা অন্ধকার কোণে দেওয়ালে মাথা রাথিয়া বজাহতের মত কঠিন হইয়া দাড়াইয়া রহিল । কিন্তু বাসার কেহ কিছুই জানিতে পারিল না। রান্নাঘরে বামুন-ঠাকুর এইমাত্র গাজার কলিকাটি নিঃশেষ করিয়া ইহার মোক্ষ দান করিবার আশ্চৰ্য্য ক্ষমতা বেদে কিরূপ লেখা আছে তাহাই ভক্ত বেহারীকে বুঝাইয়া বলিতেছিল, এবং ও-ঘরে রাখালবাবুর দল হাড়ের পাশ মানুষের চীংকার শুনিতে পায় কি-না তাহাই যাচাই করিতে লাগিল । রাস্তায় আসিয়া তিনজনেই একখানা গাড়িতে চড়িয়া বসিল, ইহাঙ্গের উন্মত্ত হাসি আর সহ করিতে না পারিয়া সতীশ তীক্ষভাবে বলিল, হয় আপনার থামুন, না হয় মাপ করুন, আমি নেমে যাই । প্রথম ব্যক্তি "আচ্ছা বলিয়াই ভয়ঙ্কর রবে হাসিয়া উঠিল, এবং তাহার সঙ্গী তাহাকে ধমক দিয়া থামিতে বলিয়া তাহার অপেক্ষাও জোরে হাসিয়া উঠিল । এই মাতাল দুটার সহিত বাক্যব্যয় বিফল বুঝিয়া সতীশ নিফল ক্রোধে জানালার বাহিরে পথের দিকে চাহিয়া নি:শব্দে বলিয়া রহিল । রাত্রে অন্ধকার বরাদায় সাবিত্রী চুপ করিয়া বসিয়া ছিল। বোধ করি, সন্ধ্যার লজ্জাকর ঘটনাই মনে মনে আলোচনা করিতেছিল। এমন সময় বেহারী আলিয়া দাড়াইল এবং তাঁহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, মা, সকলের খাওয়া হয়ে গেছে, ঠাকুরমহাশয় তোমাকে জল খেতে ডাকচেন । সাবিত্রী মুখ তুলিয়া অবসন্নভাবে কহিল, আজ আমি খাব না বেহাৰী । বেহারী সাবিত্রীকে স্নেহ করিতে, মান্ত করিত। চিন্তিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, খাবে না কেন ম', অস্কখ করেনি ত? না অস্কখ করেন, কিন্তু খাবার ইচ্ছে নেই। তোমরা খাওগে যাও বেহাল্পী । বেহারী বলিল, তবে চল, তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আলি।