প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৩৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छब्रिजशैन ছিল সে কেউ আমরা টের পাইনি। চিরকালই কম কথা কন,—স্বর্গের রথ একেবারে দোরগোড়ায় এসে হাজির না হওয়া পৰ্য্যন্ত একটা খবরও দিলেন না যে, তার সমস্তই প্রস্তুত। তোর ভয় নাই রে দিবাকর, নির্তয়ে চল। আমাদের সে উপীনদ আর নেই। এখন সহস্র অপরাধেও আর অপরাধ নেন না,—শুধু মুচকে মূচকে হাসেন,—ছি ছি, ঐ ধুলো-বালির ওপর ওখানে অমন করে গুয়ো না বৌঠান । আচ্ছ, আম্বর বাইরে যাচ্চি, তুমি একটু শোও—উঠে না যেন, বলিয়া তাড়াতাড়ি উঠিয়া আসিয়া সতীশ পায়ের উপর একটু ঠেলা দিয়াই বুঝিল, কিরণময়ী সংজ্ঞা হারাইয়া লুটাইয়া পড়িয়াছে— ইচ্ছা করিয়া ভূ-শয্যা গ্রহণ করে নাই। e সতীশ এবং দিবাকর উভয়েই পরম্পরের মুখের প্রতি চাহিয়া স্তন্ধ হইয়া দাড়াইয়া রহিল। মুহূৰ্ত্ত-কয়েক পরে সতীশ ধীরে ধীরে কছিল, ঠিক এই ভয়ই আমার ছিল দিবাকর । আমি জানতুম এ-খবর উনি সষ্টতে পারবেন না । দিবাকর চকিত হষ্টয়া সতীশের মুখের প্রতি চাহিল, সতীশ বিস্ময়াপন্ন হইয়া বলিল, এতদিন এত কাছে থেকেও কি তুই এ-কথ। টের পাসনি দিবা? আমার ভর হয়, এ-জগতে দুটি লোক কিছুতেই সে শোক সইতে পারবে না, কিন্তু একটি ত স্বর্গে গেছেন, আর একটি—কিন্তু যা, জল নিয়ে আয় দিবাকর, আমি বাতাস করি— ও কি রে, কথা ক’স্নে কেন ? অকস্মাৎ দিবাকরের আপাদ-মস্তক বারংবার কঁাপিয়া উঠিল, পরক্ষণেই সে অচেতন কিরণময়ীর দুই পদতলের উপর উপুড় হইয়া পড়িয়া বলিতে লাগিল, আমি সমস্ত বুঝেচি বোঁদি, তুমি আমার পূজনীয়া গুরুজন । তবে কেন এতকাল গোপন করে আমাকে নরকে ডোবালে ! আমি এ মহাপাপ থেকে কি করে উদ্ধার পাবে বোঁদি । 88 উপেন্দ্র বলিয়াছিলেন, সাবিত্ৰী হাড়-কখানা আমার গঙ্গায় দিস দিদি-অনেক জালায় জলেচি, তবু একটু ঠাণ্ডা হ’ব । সাবিত্রীকে তিনি আজকাল কখনো ‘তুমি’ কখনো ‘তুই’ যা মুখে জাসিত, তাই বলিয়াই ভাকিতেন। সাবিত্রী তাহার সেই শেষ ইচ্ছা এবং শেষ চিকিৎসার জন্ত কিছুদিন হইল কলিকাতার জোড়ার্সকোয় একটা বাড়ি ভাড়া লইয়া আসিয়াছিল। V2& 3