প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*ब्र६-लींश्छुिख]-ग्रं করিবে ? দৈবাৎ যাহা ঘটিয়া গেল, তাহা ত গেলই ; নিজের সম্বন্ধে সে এইখানে থামিল বটে, কিন্তু পুনঃ পুন: আলোচনা করিয়াও সতীশের সম্বন্ধে কোন বুদ্ধিই খুজিয়া পাইল না। ক্রমশঃ রাত্রি বাড়িতে লাগিল, অথচ সতীশের দেখা নাই। নিকটে কোন প্রতিবেশীর ঘরের ঘড়িতে টং টং করিয়া দুটা বাজিয়া গেল—নিস্তব্ধ গভীর রাত্রে তাহা স্পষ্ট শোনা গেল। এলোমেলো শীতল বায়ু খোলা ছাদের উপর দিয়া বহিয়া আসিয়া তাহার দুটি চক্ষুকে ঘুমে চাপিয়া ধরিতে লাগিল, তথাপি সে জাগিয়া থাকিয়া বাহির-দরজায় কান পাতিয়া রাখিল । এমনি করিয়া শুইয়া বসিয়া রাত যখন আর বড় বাকী নাই, এমন সময়ে একখানা গাড়ির শব্দে চকিত হইয়া উঠিয়া বসিয়াই বুঝিল গাড়ি তাহায়েই বাসার সম্মুখে দাড়াইয়াছে। সাবিত্ৰী নিঃশব্দে নামিয়া গিয়া দরজার পার্থে আসিয়া সতর্ক হইয়া দাড়াইল । পাছে আর কেহ থাকে এই ভয়ে সহসা খুলিতে সাহস করিল না । বিলম্ব হইতে লাগিল, কেহ দরজায় ধা দিল না। যে গাড়িখানা আসিয়াছিল তাহাও ফিরিয়া গেল। অকস্মাৎ সাবিত্রী অশঙ্কায় পরিপূর্ণ হইয়া ক্ষিপ্ৰহস্তে অগপ মুক্ত করিয়া ফেলিল । সতীশ বাহিরের চৌকাঠে হেলান দিয়া পাংশুমুখে চোখ বুজিয়া বসিয়া আছে। তাহার কাপড়ে চাদরে কাদা, মাথা এবং কপালের একধারে রক্তের রেখা অদূৰ্ববৰ্ত্তা গ্যাসের আলোকে স্পষ্ট দেখিতে পাইয়া সাবিত্ৰী কাদিয়া ফেলিল। চক্ষের নিমিষে তাহার সম্মুখে আসিয়া হাটু গাড়িয়া বসিয়া দুই হাতে সতীশের মুখ তুলিয়া ধরিয়া বলিল, বাবু, ওপরে চলুন । সতীশ মাথা নাড়িয়া বলিল, না, বেশ আছি । সাবিত্ৰী চোখ মুছিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কোথাও লেগেচে । না, লাগেনি, বেশ আছি । এ যে রাস্তা, ঘরে চলুন । সতীশ পুনৰ্ব্বার মাথা নাড়িয়া বলিল, না, যাব না, ৰেশ আছি । সাবিত্ৰী ধমক দিয়া বলিল, উটুন বলচি । ধমক খাইয়া সতীশ রক্তবর্ণ বিহবল চক্ষে খানিকক্ষণ চাহিয়া থাকিয় তাহার দিকে দুই হাত বাড়াইয়া বলিল, চল । তখন তাহারি কাধে ভর দিয়া সতীশ উঠিয়া দাড়াইল এবং তাহাকেই আশ্রয় করিয়া বহু-ক্লেশে বহু বিলম্বে টলিতে টলিতে অন্ধকার সিড়ি বাহিয়া ঘরে আলিয়া শুইয়া পড়িল। জড়িত-কণ্ঠে বলিতে লাগিল, সাবিত্রী, তোমার ঋণ আমি কোন জন্মে শুখতে পারব না । Հեր