প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরিত্রহীন ইচ্ছার পদতলে বারংবার জাহ্মসমৰ্পন করিতেছিল। সে কিছুই স্থির করে নাই, কিন্তু অঞ্চলে চোখ মুছিয়া স্বামীকে উদেশ করিয়া একাগ্রচিত্তে কছিল, উনি কোনদিন মিখ্যে বলেন না। আমি বলচি ঠাকুরপো, তোমাদের ভাল হবে এবং আমিও जष्ठाख इकै एव । - দিবাকর মুহূর্তমাজ উপেক্সর মুখপানে চাহিয়া দেখিল। মূক্ত বাতায়ন দিয়া অপৰ্য্যাপ্ত আলোক তাহার মূখের পরে আসিয়া পড়িয়াছে। মুখে উদ্বেগ নাই, ছশ্চিন্তার এতটুকু দাগ নাই—অত্যন্ত পবিত্র ও মঙ্গলময় বোধ হইল। দিবাকর কছিল, তুমি যা ভাল বোঝ, কর । আমার সময় নষ্ট হচ্ছে আমি যাই —বলিয়াই ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল। সে চলিয়া গেলে স্বমুখের কেদারায় জাসিয়া স্বরবালা বসিল । সজল চোখ দুটি স্বামীর দিকে তুলিয়া বলিল, তুমি জামাকেও মাপ কর। আমি ভুল বুঝেছিলম, তুমি যা করতে চাষ্টচ, তাতে শচীর ভালই হবে। এইবারটির মত তুমি আমাকে মাপ কর । উপেন্দ্র চিঠিখানি শেষ করিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন, মুখ তুলিয়া হাসিয়া বলিলেন, আচ্ছা । তাহার পরক্ষণ হইতে দিবাকর কেবলই ভাবিতে লাগিল, তাহার বিবাহের কথা । শচী কেমন, সে কি করে, কি ভাবে, কি পড়ে, তাহার সহিত বিবাহ হইলে কিরূপ ব্যবহার করিবে, এই-সব । রাত্রে পড়াশুনায় অত্যন্ত ব্যাঘাত ঘটিতে লাগিল । আজ তাহার মন মাতাল হইয়া উঠিল । অথচ মাতাল যেমন তাহার কল্পনার আতিশয্যে স্পষ্ট করিয়া কিছুই ভাবিতে পারে না, তাহার মনও তেমনি স্বম্পষ্ট কিছুই উপলব্ধি না করিতে পারিয়া আকাশ-কুকুম গাথিয়া ফিরিতে লাগিল, কিছুতেই কাজ করিল না। : পরীক্ষার ভয় চাবুকের মত যতবার তাহাকে ফিরাইয়া আনিয়া পাঠে নিযুক্ত করিল, ততবারই সে উধাও হইয় গিয়া আর একদিকে স্বল্প রচনা করিতে লাগিল বৰক্ষণ অবধি এই বিদ্রোহী মনের পিছনে ছুটাছুটি করিয়া কিছুই না করিতে পারিয়া দিবাকর অস্থতাপ করিতে লাগিল যে, তাহার সময় বৃথা নষ্ট হুইয়া যাইতেছে । কিন্তু কি অভূতপূৰ্ব্ব পরিবর্তন ! কিসের নেশা ষে তাহাকে অকস্মাৎ এমন মাতাল করিয়া তুলিয়াছে, তাহার হেতু খুজিতে গিয়াই যে-কথা মনে আসিল, অত্যন্ত লজার সহিত