প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শেষেরটা ব্যথাও দেয়, অপমানও করে । আবার এ ব্যথার প্রতিকার নাই, এ অপমানের মালিশ নাই । যাহার ভাল বাসিবার কথা নহে, সে ভালবাসে না—ইহাতে কাহারও কি বলিবার থাকে ! তাই, এই না-থাকাটাতেই লাঞ্ছনা এতবেশি বাজে— বেদনার হেতু খুজিয়া মিলে না বলিয়াই ব্যথা এমন অসহ হুইয়া পড়ে । যাহা হৌক, সাবিত্রীর এই নিশ্চিন্ত ও সরল কর্তব্য নিৰ্দ্ধারণ শুধু তাহার একার হৃদয়ের মানচিত্রটাই উদঘাটিত করিল না, তাহা সতীশের নিজের হৃদয়ের ছবিটাও বাহিরের আলোকে টানিয়া আনিয়া ফেলিল। এই দুখানি মানচিত্রকে পাশাপাশি রাখিয়া সে স্তম্ভিত হইয়া রহিল । সে নিশ্চিত জানিয়াছিল, সাবিত্রী ভালবাসে, সে বাসে না । এখন দেখিল ঠিক বিপরীত, সে-ই বাসে, সাবিত্রী বাসে না। এই ঘুণিত কথাটা স্বীকার করিতে শুধু লজ্জাতেই তাহার মাথা কাটা গেল না, নিজের মনের এই নীচ প্রবৃত্তিতে তাহার নিজের উপর ঘূণা জন্মিয় গেল। তাহার গত রাত্রির কাজগুলা লজ্জাকর সন্দেহ নাই ; তাহার জীবনে এমন অনেক রাত্রির অনেক লজ্জ জমা হইয়াছে সত্য, কিন্তু এই ইতরতার তুলনায় সে-সমস্তই একেবারে অকিঞ্চিৎকর হইয়া গেল । এ বাসায় ত আর একদিনও থাকা চলিবে না । এখানে থাকা না-থাকা সম্বন্ধে সে যে সম্পূর্ণ উদাসীন নয়, এ কথা সে ত কোনও মতেই স্বীকার করিতে পরিবে না । সে কঠোর প্রতিজ্ঞ করিয়া বসিল যে, বেদনার গুরুভারে মন যদি তাহার ভাঙিয়া অণু-পরমাণু হইয়াও যায়, তথাপিও না। কোনমতেই এই নীচুতাকেই প্রশ্রয় দিয়া সে একেবারে অধঃপথে যাইবে না । বাহিরে যে বেলা পড়িয়া আসিতেছিল, ঘরের মধ্যে সতীশের স্থস ছিল না । সহসা বাসায় প্রত্যাগত কেরানীদের শব-সাড়ার সে চকিত হুইয়া জানালার বাহিরে উকি মারিয়াই বিছানা ছাড়িয়া উঠিয়া পড়িল এবং তৎক্ষণাৎ একটা পিয়ান গারে দিয়া চাদর কাধে ফেলিয়া অলক্ষিতে নিঃশব্দে বাহির হইয়া গেল। এখনি হাত-মুখ ধুইবার প্রস্তাব লইয়া সাবিত্ৰী আসিয়া পড়িবে এবং খাবার জন্ত জিদ করিতে থাকিবে । আজ তাঁহার কিছুমাত্র ক্ষুধা ছিল না ; কিন্তু সাবিত্রী সে-কথা কোনমতে বিশ্বাস করিবে না, অনুরোধ করিবে, পীড়াপীড়ি করিবে, হয়ত শেষে বা রাগ করিয়া চলিয়। যাইবে । এই সমস্ত মৌখিক গ্রেহের বাগ-বিতও হইতে তাহার জীবনে জাজ এই প্রথম সে নিজেকে অকৃত্রিম স্থণার সহিত দূরে সরাইয়া লইয়া গেল । পথে ঘুরিতে ঘুরিতে সন্ধ্যার প্রাক্কালে দঙ্গিপাড়ার একটা গলির মোড়ে হঠাৎ পিছনে পরিচিত কষ্ঠের ডাক শুনিতে পাইল—ছোটবাবু না ? সতীশ ফিরিয়া দাড়াইয়া বলিল, হ্যা, মোক্ষদা নাকি ? ●ቖል