প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ইহার আশঙ্কা অমূলক নহে, তাহা চাহিবামাত্রই উভয়ে টের পাইলেন এবং সতর্ক হইয়া উঠিতে লাগিলেন। কোঠ-বাড়ি। পূৰ্ব্বে উপরতলায় চার-পাচটি ঘর ছিল, তাহার গোটা-দুই একবারে পড়িয়া গিয়াছে এবং একটা আগামী বর্ষায় পড়িবার জন্য ঠিক হইয়া আছে। বাকী তিনটার মধ্যে স্বমুখের ঘরটায় তিনজনেই প্রবেশ করিলেন । প্রবেশমাত্রই বোঝা গেল, অত্যন্ত অনধিকার-প্রবেশ হইয়াছে । মুষিকের দল তখন জীর্ণ ও পুরাতন অব্যবহার্য্য শয্যা ও উপাধান হইতে তুলা বাহির করিয়া ঘরময় ছড়াইয়া যদুচ্ছ বিচরণ করিয়া ফিরিতেছিল, অসময়ে আলোক ও জনসমাগমে চুটাছুটি চেঁচামেচি করিয়া উঠিল । সমস্ত ঘরময় ভাঙা টেবিল-চেয়ার, ভাঙা কাঠের • তোরঙ্গ, ভাঙা টিন, খালি শিশি-বোতল এবং আরও কত কি প্রাচীন দিনের গৃহ-সজ্জার ভগ্নাংশ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত রহিয়াছে। তাহারি একধারে একটা তক্তপোষ পাতা । ছেড়া গদি, ছেড়া তোষক, ছেড়া বালিশ প্রভৃতি গাদ করিয়া জোর করিয়া একধারে ঠেলিয়া রাখিয়া তাহারই একাংশে একটা মাদুর পাতা রহিয়াছে। এটা অভ্যাগতদের জন্য । স্ত্রীলোকটি মেঝের উপর কেরোসিনের ডিবাট রাখিয়া দিয়া কহিল, একটু অপেক্ষ করুন, আমি সংবাদ দিই। বলিয়া ঘর হইতে বাহির হইবামাত্রই সতীশ জুতাশুদ্ধ সেই অভ্যাগতের আসনটির উপর লাফাইয়া উঠিয়া দাড়াইল । উপেন্দ্র সভয়ে বলিয়া উঠিলেন, ও কি ও ? সতীশ ফিস্ ফি করিয়া তর্জন করিয়া উঠিল, আগে প্রাণ রক্ষণ হোক, তার পরে ভদ্রতা বৃক্ষে হবে ; দেখচ না, পায়ের কাছে আলো দেখে ঘরের সমস্ত সাপ-খোপ ছুটে আসচে । সতীশ যেমন করিয়া ভয় দেখাইল, তাহাতে বিচার-বিতর্কের আর অবসর রহিল না। উপেন্দ্রও লাফাইয়া উঠিয়া পড়িলেন। ভক্তপোষের সেই সঙ্কীর্ণ জায়গাটিতে স্থানাভাবে উভয়ে যখন ঠেলাঠেলি করিতে লাগিলেন, স্ত্রীলোকটি ফিরিয়া আসিয়া সেই সময়ে কপাটের স্বমুখে দাড়াইয়া খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। ইহারা যে ভয় পাইয়াছেন, তাহা সে বুঝিতে পারিয়াছিল। বলিল, এটা আমার শ্বশুরের ভিটা, আপনারা অমৰ্য্যাদা করচেন ! উপেন্দ্র অপ্রতিভ হইয়া তাড়াতাড়ি নামিয়া পড়িলেন, এবং সতীশের উপর অত্যস্ত বিরক্ত হইয়া বিড় বিড় করিতে লাগিলেন, এমনি ভয় দেখিয়ে দিলে,—এমনি করে .উঠল— - সতীশ নামিল না । কিন্তু বিনয় করিয়৷ বলিল, ভয় কি সাধে দেখাই tూసి