প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


5ब्लिशैन দোকান-বাজার পার হইয়া চলিতে লাগিল, চুরুট পুড়িয়া গেল, তাহার ধুরা কোথায় আকাশে মিলাইয়া গেল, তথাপি দুইজনে রাস্তার দুইধারে তেমনি নিঃশবে চাহিয়া রছিলেন। উপেক্স মনে মনে ভাবিলেন, সতীশ নিশ্চয়ই এইসমস্ত আন্দোলন করিতেছে এবং যা হোক একটা কিছু স্থির করিতেছে, না হইলে এতক্ষণ সে চুপ করিয়া থাকিবার লোক নহে, এবং কি যে সম্ভবতঃ তাহার আলোচ্য বিষয় সে অনুমান করিতে গিয়া উপেন্দ্রর আগাগোড়া সমস্তই স্মরণ হইয়া গেল । গোপনে শিহরিয়া উঠিয়া মনে মনে বলিলেন, কি কাগুই ঘটিয়াছে! এবং যাহা ঘটিয়াছে, তাহা যতই শোচনীয় হোক না কেন, সমস্তরই একটা সঙ্গত হেতু তিনি ইতিমধ্যে নির্দেশ করিতে পারিয়াছেন, কিন্তু সতীশ যে কি দেখিয়া এই অসহায়া অপরিচিতার সহিত কলহে প্রবৃত্ত হইয়াছিল, সেইটাই কোনমতে বুঝিয়া উঠিতে পারিলেন না। বাড়ির বধু যে নিজের উদ্যত বিপদের আশঙ্কা হইতে শুদ্ধমাত্র আত্মরক্ষার জন্যই দুটা রূঢ় কথা বলিতে পারে, এমন সোজা কথাটাও যে সতীশ বুঝিতে পারে নাই, এইটাই তিনি বিশ্বাস করিতে পারিতেছিলেন না । সতীশ লেখাপড়া না করুক, নিৰ্ব্বোধ নহে । উপেন্দ্র ইহা জানিতেন বলিয়াই এত বেশী পীড়া অনুভব করিলেন। মুম্ষু হারানের উইলের প্রস্তাবে একটা বিশেষত্ব ছিল বলিয়াই উপেন্দ্র অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক কথা ভাবিয়াছিলেন। বাল্যলখার জীবন্মত দেহটার পাশে বসিয়া মনে করিয়াছিলেন, এই অনাথ রমণী দুটির যাবজ্জীবন ভরণপোষণ রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন। একটা স্বাস্থ্যকর তীর্থে একটা ছোট রকমের বাড়ি কিনিয়া দিবেন। তাহা গাছপালা দিয়া, সৎ ও ভদ্র প্রতিবেশী দিয়া, শান্ত অথচ স্বাভাবে ঘেরা থাকিবে। গৃহপালিত গো-বংসের সেবা করিয়া, অতিথি-ব্রাহ্মণের পূজা করিয়া, বার-ব্রত আচরণ করিয়া এই দুই নারীর দিনগুলি যেমন করিয়া অতিবাহিত হইয়া যাইবে ইহার খসড়া-চিত্রটাই কল্পনায় মধুর হইয়া উঠিয়াছিল। এই ছবিটির একধারে গাছপালার আড়ালে, সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রব্যের পিছনে নিজের একটুখানি স্থান বোধ করি আপন অজ্ঞাতসায়েই চিহ্নিত করিবার প্রয়াস পাইতেছিলেন, এমনি সময়ে কিরণময়ীর কদর্ঘ্য অভিযোগ, সংশয়স্কুদ্ধ ক্রুদ্ধ তপ্তশ্বাস ঘূর্ণ ঝড়ের মত সে ছবির চিহ্ন পৰ্যন্ত লুপ্ত করিয়া দিল। উপেন্দ্র আর চুপ করিয়া থাকিতে পারিলেন না। ভাকিয়া বলিলেন, সতীশ কি ভাবছিল রে ? সতীশ বাহির হইতে দৃষ্টি সরাইয়া লইয়া উপেন্দ্রর দিকে চাহিয়া বলিল, ভাবটি কি জানো উপীনদা, ছেলেবেলায় একটা বাঙলা নভেল পড়েছিলাম—সেই কথাই ভাবচি । উপেন্দ্র প্রশ্ন করিলেন, কি নভেল ? ూ) ১১শ-১২