প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/১০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*tथब्र नांदौ এইবার তিনি কথা কছিলেন। এই ত! নারীর কণ্ঠস্বর ত একেই বলে। ইহার কণাটুকুও না বাদ যায়, অপূর্ব এমনি করিয়াই কান পাতিয়া রহিল। স্বমিত্ৰা কহিলেন, মনোহরবাৰু, আপনি ছেলেমানুষ উকিল নয়, আপনার তর্ক অসংলগ্ন হয়ে পড়লে ত মীমাংসা করতে পারব না । মনোহরবাৰু উত্তর দিলেন, অসংলগ্ন তর্ক করা আমার পেশাও নয়। স্বমিত্ৰ হাসিমুখে কহিলেন, তাই ত আশা করি। বেশ, বক্তব্য আপনার ছোট করে আনলে এইরূপ দাড়ায় । আপনি নবতারার স্বামীর বন্ধু । তিনি জোর করে র্তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান, কিন্তু স্ত্রী স্বামীর ঘর করতে চান না, দেশের কাজ করতে চান, এতে অন্যায় কিছু ত দেখিনে । মনোহর বলিলেন, কিন্তু স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কৰ্ত্তব্য আছে ত ? দেশের কাজ করব বললেই ত তার উত্তর হয় না । স্বমিত্ৰা কহিলেন, দেখুন মনোহরবাবু, নবতারা কোন কাজ করবেন, না-করবেন, সে বিচার তার উপর, কিন্তু তার স্বামীরও স্ত্রীর প্রতি যে কৰ্ত্তব্য ছিল, তিনি তা কোনদিন করেননি, এ-কথা আপনারা সবাই জানেন । কর্তব্য ত কেবল একদিকে নয়। মনোহর রাগিয়া কহিলেন, কিন্তু তাই বলে স্ত্রীকেও যে অসতী হয়ে যেতে হবে, সেও ত কোন যুক্তি হতে পারে না । এই বয়সে এই দলের মধ্যে থেকেও উনি সতীত্ব বজায় রেখে যে দেশের সেলা করতে পারবেন, এ ত কোনমতেই জোর করে বলা চলে না ! স্বমিত্রার মুখ ঈষৎ আরক্ত হইয়াই তখনি সহজ হইয়া গেল, বলিলেন, জোর করে কিছু বলাও উচিত নয়। কিন্তু আমরা দেখচি নবতারার হৃদয় আছে, প্রাণ আছে, সাহস আছে এবং সবচেয়ে বড় যা সেই ধৰ্ম্মজ্ঞান আছে । দেশের সেবা করতে এইটুকুই আমরা যথেষ্ট জ্ঞান করি। তবে, আপনি যাকে সতীত্ব বলচেন, সে বজায় রাখবার ওঁর স্ববিধে হবে কিনা সে উনিই জানেন ! মনোহর নবতারার আনত মুখের প্রতি একবার কটাক্ষে চাহিয়া বিদ্রপ করিয়া বলিয়া উঠিলেন, খাসা ধৰ্ম্মজ্ঞান ত! দেশের কাজে এই শিক্ষাই বোধ হয় উনি দেশের মেয়েদের দিয়ে বেড়াবেন ? সুমিত্রা বলিলেন, ওঁর দায়িত্ববোধের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। ব্যক্তিবিশেষের চরিত্র আলোচনা করা আমাদের নিয়ম নয়, কিন্তু যে স্বামীকে উনি ভালবাসতে পারেননি, আর একটা বড় কাজের জন্ত র্যাকে ত্যাগ করে আসা উনি অন্যায় মনে করেননি, সেই শিক্ষাই যদি দেশের মেয়েদের উনি দিতে চান ত আমরা আপত্তি করব না । b%)