প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/১৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ভারতী কহিল, আমাদের মুস্থিল হয়েচে, না মূখ দেখে, না কথা শুনে আপনার মনের কথা জানবার জো আছে। ঠিক করে বলে যান কবে ফিরবেন ? ঐ-যে বললাম, দেব না জানন্তি – না তা হবে না, সত্যি করে বলুন কবে ফিরবেন ? এত তাগাদা কেন বলত ? ভারতী কহিল, কি জানি এবার কেমন যেন ভয় করচে। মনে হচ্চে যেন সব ভেঙে চুরে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। বলিতে বলিতে সহসা তাহার চক্ষু অশ্রুপরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। তাহার মাথার উপর হাত রাখিয়া ডাক্তার রহস্যভরে কহিলেন, হবে না গো, হবে মা,—সব ঠিক হয়ে যাবে। বলিয়াই হঠাৎ ফিক্‌ করিয়া হাসিয়া ফেলিয়া কহিলেন, কিন্তু এই মাস্থ্যটির সঙ্গে এমন মিছি-মিছি ঝগড়া করলে কিন্তু সত্যিই কঁদিতে হবে তা বলে রাখচি। অপূৰ্ব্ববাবু রাগ করেন বটে, কিন্তু ভাল থাকে বাসেন তাকে ভালবাসতেও জানেন । মানুষের মধ্যে যে হৃদয়বস্তুটি আছে সে আমাদের সংসর্গে এখনো শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়নি। ফুটন্ত পদ্মটির মত ঠিক তাজা আছে । ভারতী কি একটা জবাব দিতে যাইতেছিল, কিন্তু অপূৰ্ব্ব হঠাৎ মুখ তুলিতেই তাহার মুখের দিকে চাহিয় তাহার নিজের মুখ বন্ধ হইয়া গেল। এমন সময়ে দ্বারের কাছে আলিয়া একখানা ঘোড়ার গাড়ি থামিল এবং অনতিকাল মধ্যেই দুইজন লোক প্রবেশ করিল। একজনের পরিধানে আগাগোড়া সাহেবী পোষাক, ডাক্তার ভিন্ন বোধ করি সকলেরই অপরিচিত ; আর একজন রামদাস তলওয়ারকর । অপূৰ্ব্বর মুখ প্রদীপ্ত হইয়া উঠিল, কিন্তু কলরব করিয়া সে বন্ধুকে সংবৰ্দ্ধনা করিতে গেল না। রামদাস অগ্রসর হইয়া ডাক্তারের পদধূলি গ্রহণ করিল। অপূৰ্ব্বর কাছে ইহা অদ্ভুত ঠেকিল। কিন্তু ভাক্তারের মুখের প্রতি সে শুধু নীরবে নেত্রপাত করিয়া নীরব হইয়াই রহিল । ইংরাজি পোষাক পরা লোকটি ইংরাজীতেই কথা কহিলেন, বলিলেন, জামিনের জন্তই এত বিলম্ব ঘটিল। কেস বোধ হয় গভর্ণমেণ্ট চালাবে না। ডাক্তার মুছ হাসিয়া বলিলেন, তার মানে গভর্ণমেণ্টকে তুমি আজ ও চেননি কৃষ্ণ আইয়ার। এই কথায় রামদাস সহস্তে যোগ দিয়া জিজ্ঞাসা করিল, মাঠ থেকে থানা পৰ্য্যস্ত আপনাকে সকল সময়েই সঙ্গে দেখেছিলাম, কিন্তু হঠাৎ কখন যে অস্তৰ্হিত হয়েছিলেন সেইটাই জানতে পারিনি। ডাক্তার হাসিমুখে কহলেন, অন্তৰ্দ্ধানের গভীর কারণ ঘটেছিল রামদাসবাৰু । y se