প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/১৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথের দাৰী গিন্ধে ভান হাতটা আমার মচকে গেল। ডাক্তার এসে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে গলার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিলেন। সবাই আহ আহা করতে লাগলো, শুধু পণ্ডিতমশাই ৰুণী হয়ে বললেন, যাক আমি ক’টা আমার ঢ়িলের বা থেকে বাচলো। পাকলে ছুটে একটা হয় ত মুখে দিতেও পারবো। ভারতী বলিল, বডড দুই ছিলেন ত! ডাক্তার বলিলেন, ই, দুর্নাম একটু ছিল বটে। বাই হোক পরের দিন ৰেৰেই আবার তেমনি আম পাড়ায় লেগে গেলাম, কিন্তু পণ্ডিতমশাই কি করে খবর পেয়ে সেদিন হাতে-নাতে একেবারে ধরে ফেললেন । খানিকক্ষণ অবাক হয়ে চেয়ে থেকে বললেন, ঘাট হয়েছে বাবা সব্যসাচী, আমের আশা আর করিনে। ডানট ভেঙেচে, ব-হাত চলচে, ব-টা ভাঙলে বোধ হয় পা ছুটে চলবে । থাক বাৰা, আর কষ্ট করো না, যে কটা কাচা আম বাকি আছে লোক দিয়ে পাড়িয়ে দিচ্চি । ভারতী খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিয়া কহিল, পণ্ডিতমশায়ের অনেক দুঃখের দেওয়া নাম । ডাক্তার নিজেও হাসিয়া বলিলেন, ই, আমার অনেক দুঃখের নাম । কিন্তু সেই থেকে আমার আসল নামটা লোকে যেন ভুলেই গেল । ভারতী ক্ষণকাল স্থির থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, আচ্ছা, সকলে ষে বলে দেশ আর আপনি, আপনি আর দেশ—এই দুই-ই আপনাতে একেবারে এক হয়ে গেছে, —এ কি করে হল ? ডাক্তার কহিলেন, সেও এক ছেলেবেলার ঘটনা ভারতী । এ জীবনে কত কি এলো, কত কি গেলো, কিন্তু সেদিনটা এ জীবনে একেবারে অক্ষয় হয়ে রইল । আমাদের গ্রামের প্রান্তে বৈষ্ণবদের একটা মঠ ছিল, একদিন রাত্রে সেখানে ডাকাত পড়লে । চেঁচামেচি কান্না-কাটিতে গ্রামের বহুলোক চারদিকে জমা হল, কিন্তু ডাকাতদের সঙ্গে একটা গাদা বন্দুক ছিল, তারা তাই ছড়িতে লাগলো দেখে কোন লোক তাদের কাছে ঘেষতে পারলে না। আমার জাঠতুতো একজন বড়ভাই ছিলেন, তিনি অত্যন্ত সাহসী এবং পরোপকারী, বাবার জন্ত তিনি ছটফট করতে লাগলেন, কিন্তু গেলে নিশ্চয় মৃত্যু জেনে সবাই তাকে ধরে রেখে দিলো। নিজেকে কোনমতে ছাড়াতে না পেরে তিনি সেইখান থেকে শুধু নিষ্ফল আস্ফালন এবং ডাকাতদের গালাগালি দিতে লাগলেন । কিন্তু কোন ফলই তাতে হল না, তারা ওই একটি মাত্র বন্ধুকের জোরে দু-তিনশ লোকের স্বযুখে মোহস্ত বাবাজীকে খুঁটিতে বেঁধে তিল তিল করে পুড়িয়ে মারলে। ভারতী, আমি তখন ছেলেমানুষ ছিলাম, htు: ه- به «