প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/২১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रोपेंद्म णिांसैौ ডাক্তার ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন, ই । মুমিত্র অস্বীকার করে বারবার বলতে লাগল সমস্তই মিথ্য", সমস্তই একটা প্রকাও যড়যন্ত্র। অর্থাৎ, তারা তাকে চোরাই জাফিঙ বেচার কাজে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রশাস্ত মহাসাগরের সমস্ত দ্বীপগুলোতেই এদের ঘাটি আছে—এদের একটা প্রকাও দুবৃত্তের দল। এরা না পারে এমন কাজ নেই। বুঝলাম সুমিত্রা কেন আমার কাছ থেকে যেতে চায়নি এবং তার চেয়েও বেশি বুঝলাম ষে এ সমস্তার সহজে মীমাংসা হবে না। তাদের কিন্তু বিলম্ব সয় না, সদ্যসদ্যই একটা রফা করে মুমিত্রাকে টেনে নিয়ে যেতে চায় । বাধা দিলাম, পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেব ভয় দেখালাম, তারা চলে গেল, কিন্তু রীতিমত শাসিয়ে গেল ষে তাদের হাত থেকে আজও কেউ নিস্তার পায়নি। কথাটা নেহাৎ তারা মিথ্যে বলে ষায়নি । ভারতী শঙ্কায় পরিপূর্ণ হইয়া কহিল, তারপর ? ডাক্তার কহিলেন, রাত্রিট সাবধান হয়ে রইলাম । তারা যে সদলবলে ফিরে এসে আক্রমণ করবে তা জানতাম । ভারতী ব্যগ্র হইয়া কহিল, তখনি তোমরা পালিয়ে গেলে না কেন ? পুলিশে খবর দিলে না কেন ? ডচ গভর্ণমেণ্টের পুলিশ-পাহারা বলে কি কিছু নেই না কি ? ডাক্তার কহিলেন, না থাকার মধ্যেই । তা ছাড়া থানা-পুলিশ করা আমার নিজেরও খুব নিরাপদ নয়। ধাই হোক, বাত্রিটা কিন্তু নিরাপদেই কাটলো । এখানে সমূদ্রের কিনারা বয়ে যাবার অনেক ব্যবসা-বাণিজ্যের নৌকা পাওয়া যায়, পরদিন সকালেই একটা ঠিক করে এলাম, কিন্তু সুমিত্রার হল জর—সে উঠতে পারলে না। অনেক রাত্রে দোর খোলার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল, জানালা দিয়ে উকি মেরে দেখলাম, হোটেল ওয়ালা কবাট খুলে দিয়েচে এবং জন দশ-বারো লোক বাড়িতে ঢুকচে । তাদের ইচ্ছে ছিল আমার দরজাটা কোনমতে আটকে রেখে তারা পাশের সিড়ি দিয়ে ওপরে সুমিত্রার ঘরে গিয়ে ঢোকে । ভারতী নিশ্বাস রুদ্ধ করিয়া কছিল, তারপর ? তোমরা পালালে কোথা দিয়ে ? ডাক্তার বলিলেন, তার আর সময় হল কই ? কিন্তু তাদের আগেই আমি দোর খুলে উপরে যাওয়ার সিড়িটা আটকে ফেললাম। ভারতী পাংগুমুখে জিজ্ঞাসা করিল, একলা ? তারপরে ? ভাক্তার বলিলেন, তার পরের ঘটনাটা অন্ধকারে ঘটলো, সঠিক বিৰরণ দিতে পারব না। তবে নিজেরটা জানি। একটা গুলি এসে বা কাধে বিধলে, আর একটা লাগলো ঠিক হাটুর নীচে। সকাল হলে পুলিশ এলো, পাহার এলো, গাড়ি এলো, ডুলি এলো, জনছয়েক লোককে তুলে নিয়ে গেল,—হোটেল-ওয়ালা ቈ•ፃ