প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/২৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পৰেৱ দাৰী ক্ষেপেচি ? তাই হবে। একটুখানি ৰামিয়া বলিল, মনে হয় আমি যেন তোমার কাজের বাধা । তাই, যেন কোথায় আমাকে আস্তে আস্তে সরিয়ে দিয়ে যাচ্চো । কিন্তু আমি কি দেশের কোন ভাল কাজেই লাগতে পারিনে ? এমন সুযোগ কি কোথাও কিছু নেই ? ডাক্তার বলিলেন, দেশে ভাল কাজ করার অসংখ্য অবকাশ আছে ভারতী, কিন্তু সুযোগ নিজে তৈরি করে নিতে হয় । ভারতী আর করিয়া বলিল, আমি পারিনে দাদা, তুমি তৈরি করে দিয়ে যাও। ডাক্তার ক্ষণকাল মৌন হুইয়া রহিলেন। তাহার হাসিমুখ সহসা গভীর হইয়া উঠিল, অন্ধকারে ভারতী তাহ দেখিতে পাইল না। কছিলেন, দেশের মধ্যে ছোটবড় এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা দেশের ঢের ভাল কাজ করে। আৰ্ত্তের সেবা, নর-নারীর পূণ্যসঞ্চয়ে প্রবৃত্তি দান করা, লোকের জর ও পেটের অমুখে ঔষধ যোগানে, জল-প্লাবনে সাহায্য ও সান্থনা দেওয়া—তারাই তোমাকে পথ দেখিয়ে দেবে ভারতী, কিন্তু আমি বিপ্লবী। আমার মারা নেই, দয়া নেই, স্নেহ নেই,—পাপ-পুণ্য আমার কাছে মিথ্যা পরিহাস । ওই-সব ভাল কাজ আমার কাছে ছেলেখেলা । ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র লক্ষ্য, আমার একটিমাত্র সাধনা। এই আমার ভাল, এই আমার মন্দ,—এ ছাড়া এ জীবনে আর আমার কোথাও কিছু নেই । ভারতী, আমাকে আর তুমি টেনো না । ভারতী অন্ধকারে একদৃষ্টে তাহার প্রতি চাহিয়াছিল, রুদ্ধ নিশ্বাস ত্যাগ করিয়া স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল । ఫ్చి ఆ আজ শনিবার শশী ও নবতারার বিবাহের দিন। শণীর সনিৰ্ব্বন্ধ প্রার্থনা এই ছিল যে, রাত্রির অন্ধকারে লুকাইয়া কোন এক সময়ে যেন ডাক্তার ভারতীকে সঙ্গে করিয়া আসিয়া আজ তাহাদের আশীৰ্ব্বাদ করিয়া ষাণ | পঞ্চমীর থওচক্স সেইমাত্র গাছের আড়ালে ঢলিয়া পড়িয়াছে, ভারতী একখানা কালো ব্যাপারে সর্বাঙ্গ আচ্ছাদিত করিয়া নিঃশন্স পদক্ষেপে তাহার সেই জনশূন্ত ঘাটের একধারে আসিয়া দাড়াইল। ডাক্তার নৌকায় অপেক্ষা করিতেছিলেন, ভারতী আরোহণ করিয়া বলিল, কত কি-ৰে ভাবতে ভাৰতে আসছিলাম তার ঠিকান নেই। জানি, আমাকে না বলে তুমি কিছুতেই চলে বাবে না, তবু ত ভয় ঘোচে না। ক'দিনই বা কিন্তু মনে হছিল যেন কত ব্লগ हैॐ9