প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/২৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথের জাৰী করতে আমাদের বলে না । বরঞ্চ আমরা তাদের স্বস্তির বাধা, আরামের অন্তরায়,— আমাদের তারা সোনার চক্ষে দেখে না । ইংরাজ যখন দম্ভভরে প্রচার করে, ভারতৰীয়ের স্বাধীনত চায় না, পরাধীনতাই কামনা করে, তখন ত তারা নেহাৎ মিথ্যে বলে না! আর যুগ-যুগাস্তের অন্ধকারের মধ্যে বসে দুচোখের দৃষ্টি ষাদের বন্ধ হয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধেই বা হা-হুতাশ করবার কী আছে ভারতী ! মুহূৰ্ত্তকাল মৌন থাকিয়া কহিলেন, বিদেশী রাজার জেলের মধ্যে যদি আজ তলওয়ারকরকে মরতেই হয় পরলোকে দাড়িয়ে স্ত্রী-কন্যাকে পথে পথে ভিক্ষে করতে দেখে চোখ দিয়ে তার জল গড়িয়ে পড়বে, কিন্তু নিশ্চয় জেনো দেশের লোকের বিরুদ্ধে সে ভগবানের কাছেও কখনো একটা নালিশ জানাবে না। আমি তাকে চিনি,-লজার তার মুখ ফুটবে না। * ভারতী অক্ষুটে কহিল, উঃ ! কৃষ্ণ আইয়ার বাঙলা বলিতে পারিত না, কিন্তু মাঝে মাঝে বুঝিত ; সে ঘাড় নাড়িয়া শুধু কহিল, ইয়েস, ট্র, ! ডাক্তার বলিলেন, ই, এই ত সত্য ! এই ত বিপ্লবীর চরম শিক্ষা ! কান্না কার তরে ? নালিশ কার কাছে ? দাদার যদি ফাসি হয়েচে শোনো, জেনো বিদেশীর হুকুমে সে ফাসি তার দেশের লোকেই তার গলায় বেঁধে দিয়েচে ! দেবেই ত । কসাইখানা থেকে গরুর মাংস গরুতেই ত বয়ে নিয়ে আসে । তার আবার নালিশ কিসের বোন ? ভারতী দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিয়া বলিল দাদা, এই ত তোমাদের পরিণাম | ডাক্তারের চোখ জলিয়া উঠিল, কছিলেন, একি তুচ্ছ পরিণাম ভারতী ? জানি, দেশের লোকে এর দাম বুঝবে না, হয়ত উপহাসও করবে, কিন্তু ষাকে এই ঋণ একদিন কড়ায় গণ্ডায় শোধ দিতে হবে, হাসি তার মুখে কিন্তু সহজে যোগাবে না । এই বলিয়া সহসা নিজেই হাসিয়া কহিলেন, ভারতী, নিজে ক্রীশ্চান হয়ে তুমি তোমার ধর্শের গোড়ার কথাটাই ভুলে গেলে ? যীশুখৃষ্টের রক্তপাত কি সংসারে ব্যর্থই হয়েচে ভাবো ? সকলেই স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল, ডাক্তার পুনশ্চ কহিলেন, তোমরা ত জানো বৃথা নরহত্যার আমি কোনদিন পক্ষপাতী নই, ও আমি সৰ্ব্বাস্তুকরণে ঘৃণা করি। নিজের হাতে আমি একটা পিঁপড়ে মারতেও পারিনে। কিন্তু প্রয়োজন হলে,-কি বল সুমিত্ৰা ? সুমিত্রা সায় দিয়া বলিল, সে আমি জানি, নিজের চোখেই ত আমি বার-দুই দেখেচি। ኟግቕ»