প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/৩০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাহার ব্যাকুল কণ্ঠস্বরে সুমিত্রার আত্মসংযমের কঠিন বাধ ভাজিয়া পড়িল। সে পাংগুমুখে প্রশ্ন করিল, সত্যিসত্যিই কি তুমি সিঙ্গাপুরে নামবে নাকি ? এ কাজ তুমি । কখখনো করো না ডাক্তার, সেখানকার পুলিশে তোমাকে ভাল করেই চেনে। এবার তাদের হাত থেকে তুমি কিছুতেই— কথা তাহার শেষ হইল না, উত্তর আসিল, তারা কি এখানেই আমাকে চেনে না জুমিত্ৰা ? কিন্তু এই লইয়া তর্ক করিয়া ফল নাই, যুক্তি দেখাইবার অবসর নাই,—হয়ত বা, প্রশ্নটা সুমিত্রা শুনেও নাই ; যে কথা বাহিরে আসিবার ব্যাকুলতায় এতদিন মাথা কুটিয়া মরিতেছিল তাহাই অন্ধবেগে নিষ্ক্রান্ত হইয়। আসিল,- কেবল একটিবার ডাক্তার, শুধু এইবারটির মত আমার উপরে নির্ভর করে দেখ, তোমাকে আমি মুরাভায়ায় নিয়ে যেতে পারি কিনা । তারপরে টাকায় কি না হয় বল | ডাক্তার হেঁট হইয়া জুতার ফিতা বাধিতেছিল, বাধা শেষ করিয়া মুখ তুলিয়া কহিলেন, টাকায় অনেক কাজ হয় সুমিত্রা, তার অপচয় করতে নেই। সকলেই বুবিল, এ আলোচনা বৃথা। উপায়হীন বেদনায় হয়ে পূর্ণ করিয়া স্বমিত্র অশ্রশ্লাবিত চক্ষে অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া রহিল। ভারতী কহিল, আমাকে অকুল সমূত্রে ভাসিয়ে দিয়ে চললে দাদা, অথচ, বারবার বলতে আমাকে,--আর শুধু জামাকে কেন, আমাদের যত বয়সের যেখানে যত মেয়ে আছে তাদের প্রতি তোমার বড় লোভ, সকলকেই তুমি অত্যন্ত ভালোবাসো, সে কি এই ? ডাক্তার সায় দিয়া বলিলেন, সত্যই ভালবাসি ভারতী । মেয়েদের পরে ষে আমার কত লোভ, কত ভরসা, সে কথা নিজে তোমাদের জানাবার সুযোগ হল না, কিন্তু পারো যদি দাদার হয়ে এই কথাটা তাদের জানিয়ে দিয়ো বোন । ভারতী সহসা কাদিয়া ফেলিয়া বলিল, জানাবো এই যে, আমাদের শুধু তুমি বলি দিতে চাও । ডাক্তার মূহূৰ্ত্তকাল তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া কহিলেন, বেশ তাই বোলো । বাঙলাদেশের একটি মেয়েও যদি তার অর্থ বোঝে, আমি তাতেই ধন্ত হব। এই বলিয়া তাহার স্ববৃহৎ বেঁচেকাটা কাধে তুলিয়া লইলেন। তাহার পিছনে পিছনে সকলেই নীচে নামিয়া আসিল । ভারতী শেষ চেষ্টা করিয়া কহিল, দেশের আয়োজন যার নিষ্ফল হয়ে যায়, বিদেশের আয়োজনে তার কি হয় দাদা ? যারা অন্তরঙ্গ সুহৃং একে একে সবাই ছেড়ে গেল, এখন তুমি একেবারে নিঃসঙ্গ,— একেবারে একা । ডাক্তার স্বীকার করিয়া কহিলেন, ঠিক তাই। কিন্তু, একাই আরম্ভ করেছিলাম శిఠిy