প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/৩১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰছ লাগিল। কাছে আসিয়া নীরবে ধীরে ধীরে তাহার গলায় মাথায় পিঠে হাত বুলাইয়া দিতে দিতে চুপি চুপি বলতে লাগিল, মহেশ, তুই আমার ছেলে, তুই আমাদের আট সন প্রতিপালন করে বুড়ো হয়েছিল, তোকে আমি পেটপুরে খেতে দিতে পারি নে— কিন্তু তুই ত জানিস্ তোকে আমি কত ভালবাসি। - মহেশ প্রত্যুত্তরে শুধু গলা বাড়াইয়া আরামে চোখ বুজিয়া রহিল। গফুর চোখের জল গরুটার পিঠের উপর রগড়াইয়া মুছিয়া ফেলিয়া তেমনি অস্ফুটে কহিতে লাগিল, জমিদার তোর মুখের খাবার কেড়ে নিলে, শ্মশান ধারে গায়ের ষে গোচরটুকু ছিল তাও পয়সার লোভে জমা-বিলি করে দিলে, এই দুৰ্ব্বচ্ছরে তোকে কেমন করে বাচিয়ে রাখি বল ? ছেড়ে দিলে তুই পরের গাদা ফেড়ে খাবি, মানুষের কলাগাছে মুখ দিবি—তোকে নিয়ে আমি কি করি । গায়ে আর তোর জোর নেই, দেশের কেউ তোকে চায় না—লোকে বলে তোকে গো-হাটায় বেচে ফেলতে— কথাটা মনে মনে উচ্চারণ করিয়াই আবার তাহার দুচোখ বাহিয়া টপ, টপ করিয়া জল পড়িতে লাগিল । হাত দিয়া-মুছিয়া ফেলিয়া গফুর একবার এদিক-ওদিকে চাহিল, তার পরে ভাঙা ঘরের পিছন হইতে কতকটা পুরানো বিবর্ণ খড় আনিয়া মহেশের মুখের কাছে রাখিয়া দিয়া আস্তে আস্তে কহিল, নে, শিগগির করে একটু খেয়ে নে বাবা, দেরি হ'লে আবার— বাবা ? কেন মা ? ভাত খাবে এসো, বলিয়া আমিনা ঘর হইতে দুয়ারে আসিয়া দাড়াইল । এক মুহূৰ্ত্ত চাহিয়া থাকিয়া কছিল, মহেশকে আবার চাল ফেড়ে খড় দিয়েচ বাবা ? ঠিক এই ভয়ই সে করিতেছিদ্ৰ, লজ্জিত হইয়া বলিল, পুরোনো পড়া খড় মা, আপনিই ঝরে যাচ্ছিল— আমি ষে ভেতর থেকে শুনতে পেলাম বাবা তুমি টেনে বার করচ ? না মা, ঠিক টেনে নয় বটে— কিন্তু দেওয়ালটা ষে পড়ে যাবে বাবা— গফুর চুপ করিয়া রহিল। একটিমাত্র ঘর ছাড়া ষে আর সবই গিয়াছে এবং এমন করিলে আগামী বর্ষায় ইহাও টিকিবে না এ-কথা তাহার নিজের চেয়ে আর কে বেশি জানে ? অথচ এ উপায়েই বা কটা দিন চলে । মেয়ে কহিল, হাত ধুয়ে, ভাত খাবে এসে বাবা, আমি বেড়ে দিয়েচি । গফুর কহিল, ফ্যানটুকু ক্ষে ত মা, একেবারে খাইয়ে দিয়ে যাই । ফ্যান ষে আজ নেই বাবা, হাড়িতেই মরে গেছে । \bete