প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/৩২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আছে তাহা একেবারে শুষ্ক। শিবচরণবাৰুর খিড়কীর পুকুরে যা একটু জল আছে তা সাধারণে পায় না। অন্তান্ত জলাশয়ের মাঝখানে দু-একটা গৰ্ত্ত ধড়িয়া যাহা কিছু জল সঞ্চিত হয় তাহাতে যেমন কাড়াকড়ি তেমনি ভিড়। বিশেষতঃ মুসলমান ৰলিয়া এই ছোট মেয়েটা ত কাছেই বেসিতে পারে না। ঘণ্টার পরে ঘণ্টা দূরে দাড়াইয়া বহু অনুনয় বিনয়ে কেহ দয়া করিয়া যদি তাহার পাত্রে একটু ঢালিয়া দেয় সেইটুকুই সে ঘরে আনে। এসমস্তই সে জানে। হয়ত আজ জল ছিল না, কিংবা কাড়াকাড়ির মাঝখানে কেহ মেয়েকে তাহার কৃপা করিবার অবসর পায় নাই—এমনিই কিছু একটা হইয়া থাকিবে নিশ্চয় বুঝিয়া তাহার নিজের চোখেও জল ভরিয়া আসিল । এমনি সময়ে জমিদারের পিয়াল যমদূতের ন্যায় আসিয়া প্রাঙ্গণে দাড়াইল, চিৎকার করিয়া ডাকিল, গফরা ঘরে আছিস্ ? গফুর তিক্তকণ্ঠে সাড়া দিয়া কহিল, আছি। কেন ? বারমশায় ডাকচেন, আয় । গফুর কহিল, আমার খাওয়া-দাওয়া হয় নি, পরে যাবো । এতবড় স্পৰ্দ্ধ পিয়াদার সহ হইল না। সে কুৎসিত একটা সম্বোধন করিয়া কহিল, বাবুর হুকুম জুতো মারতে মারতে টেনে নিয়ে যেতে। গফুর দ্বিতীয়বার আত্মবিশ্বত হইল, সেও একটা দুৰ্ব্বাক্য উচ্চারণ করিয়া কহিল, মহারাণীর রাজত্বে কেউ কারো গোলাম নয়। খাজনা দিয়ে বাস করি, আমি ষাবো না । কিন্তু সংসারে অত ক্ষুত্রের অতবড় দোহাই দেওয়া শুধু বিফল নয়, বিপদের কারণ। রক্ষা এই যে অত ক্ষীণকণ্ঠ অতবড় কানে গিয়া পৌছায় না—না হইলে তাহার মূখের অন্ন ও চোখের নিদ্রা দুই-ই ঘুচিয়া ষাইত। তাহার পর কি ঘটিল বিস্তারিত করিয়া বলার প্রয়োজন নাই, কিন্তু ঘণ্টা-খানেক পরে যখন সে জমিদারের সদর হইতে ফিরিয়া ঘরে গিয়া নিঃশব্দে শুইয়া পড়িল তখন তাহার চোখ-মুখ ফুলিয়া উঠিয়াছে। তাহার এত বড় শাস্তির হেতু প্রধানতঃ মহেশ। গফুর বাটী হইতে বাহির হইবার পরে সেও দড়ি ছিড়িয়া বাছির হইয়া পড়ে এবং জমিদারের প্রাঙ্গণে ঢুকিয়া ফুলগাছ খাইয়াছে, ধান শুকাইতেছিল তাহা ফেলিয়া ছড়াইয়া নষ্ট করিয়াছে, পরিশেষে ধরিবার উপক্রম করায় বাবুর ছোটমেয়েকে ফেলিয়া দিয়৷ পলায়ন করিয়াছে। এরূপ ঘটনা এই প্রথম নয়—ইতিপূর্কেও ঘটাছে, শুধু গরীব বলিয়াই তাহাকে মাপ করা হইয়াছে। পূর্কের মত এবারও সে আসিয়া হাতেপায়ে পড়িলে হয় ত ক্ষমা করা হইত, কিন্তু সে যে কর দিয়া বাস করে বলিয়া কাহারও গোলাম নয় বলিয়া প্রকাশ করিয়াছে—প্রজার মুখের এতবড় স্পৰ্ব ২০১২