প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/৩২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহেশ জমিদার হইয়া শিবচরণবাৰু কোন মতেই সন্ধ করিতে পারেন নাই। সেখানে সে প্রহার ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদ মাত্র করে নাই, সমস্ত মূখ বুজিয়া সহিয়াচে, ঘরে আসিয়াও সে তেমনি নিঃশব্দে পড়িয়া রহিল। ক্ষুধা-তৃষ্ণার কথা তাহার মনে ছিল না, কিন্তু বুকের ভিতরটা যেন বাহিরের মধ্যান্ধ আকাশের মতই জলিতে লাগিল । এমন কতক্ষণ কাটিল তাহার স্থশ ছিল না, কিন্তু প্রাঙ্গণ হইতে সহসা তাহার মেম্বের আৰ্ত্তকণ্ঠ কানে যাইতেই সে সবেগে উঠিয়া দাড়াইল এবং ছুটিয়া বাহিরে আসিতে দেখিল, আমিনা মাটিতে পড়িয়া এবং বিক্ষিপ্ত ভাঙা ঘট হইতে জল ঝরিয়া পড়িতেছে। অার মহেশ মাটিতে মুখ দিয়া সেই জল মরুভূমির মত ষেন গুৰিয়া ধাইতেছে। চোখের পলক পড়িল না, গফুর দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্ত হইয়া গেল। মেরামত করিবার জন্য কাল সে তাহার লাঙ্গলের মাথাটা বুলিয়া রাখিয়াছিল, তাহাই দুই হাতে গ্রহণ করিয়া সে মহেশের অবনত মাথার উপর সজোরে আঘাত করিল। একটিবারমাত্ৰ মহেশ মুখ তুলিবার চেষ্টা করিল, তাহার পরে তাহার অনাহারক্লিষ্ট শীর্ণদেহ ভূমিতলে লুটাইয়া পড়িল । চোখের কোণ বহিয়া কয়েক বিন্দু অশ্রু ও কান বাহিয়া ফোটাকয়েক রক্ত গড়াইয়া পড়িল । বার-দুই সমস্ত শরীরটা তাহার থর থর করিয়া কাপিয়া উঠিল, তার পরে সম্মুখ ও পশ্চাতের পা দুটা তাহার যতদূর ষায় প্রসারিত করিয়া দিয়া মহেশ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করিল। আমিনা কাদিয়া উঠিয়া বলিল, কি করলে বাবা, আমাদের মহেশ ষে মরে গেল । গফুর নড়িল না, জবাব দিল না, শুধু নির্নিমেষচক্ষে আর এক জোড়া নিমেষহীন গভীর কালোচক্ষের পানে চাহিয়া পাথরের মত নিশ্চল হুইয়া রহিল। ঘণ্টা-দুয়ের মধ্যে সংবাদ পাইয়া গ্রামাম্ভের মুচির দল আসিয়া জুটিল, তাহারা বাশে বাধিয়া মহেশকে ভাগাড়ে লইয়া চলিল। তাহাদের হাতে ধারালো চকৃচকে ছুরি দেখিয়া গফুর শিহরিয়া চক্ষু মুদিল, কিন্তু একটি কথাও কহিল না। পাড়ার লোকে কহিল, তৰ্করস্ত্রের কাছে ব্যবস্থা নিতে জমিদার লোক পাঠিয়েছেন, প্রাচিত্তিরের খরচ যোগাতে এবার তাকে না ভিটে বেচতে হয়। - গফুর এ সকল কথায় উত্তর দিল না, দুই হাটুর উপর মুখ রাখিয়া ঠায় বসিয়া রহিল । অনেক রাত্রে গফুর মেয়েকে তুলিয়া কহিল, আমিন, চল আমরা ধাই— সে দাওয়ায় ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল, চোখ মুছিয়া উঠিয়া বসিয়া বলিল, কোৰায় বাবা ? গফুর কহিল, ফুলবেড়ের চটকলে কাজ করতে। মেয়ে আশ্চর্ঘ্য হইয়া চাহিয়া রহিল। ইতিপূৰ্ব্বে অনেক দুখেও পিতা তাহার veళి