প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/৩৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বয়স কম, দেখতে ভালো এবং খাওয়া সম্বন্ধে নির্বিকাল্পচিত্ত। চাকরদের দরদ তার পরেই বেণী ; অতএব আমার অতিথি করে উপবাস। বিকালে পথের ধারে গিয়ে বসি, দেখি অতিথি আগে থেকেই বসে আছে ধূলোয়। বেড়াতে বার হলে সে হয় পথের সঙ্গী ; জিজ্ঞাসা করি, ই অতিথি, আজ মাংস রান্নাটা কেমন হয়েছিল রে ? হাড়গুলো চিবোতে চিবোতে স্থিরচিত্তে সে জবাব দেয় ল্যাজ নেড়ে, মনে করি মাংসটা তা হলে ওর ভালোই লেগেছে। জানিনে যে মালীর বউ তাকে মেরে ধরে বার করে দিয়েছে,—বাগানের মধ্যে ঢুকতে দেয় না, তাই ও স্বমুখের পথের ধারে বসে কাটায় । আমার চাকরদের তাতে সায় ছিল। হঠাৎ শরীর খারাপ হ’লো, দিন-দুই নীচে নামতে পারলাম না। দুপুর বেলা উপরের ঘরে বিছানায় শুয়ে, খবরের কাগজটা সেইমাত্র পড়া হয়ে গেছে, জানালার মধ্যে দিয়ে বাইরের রৌদ্রতপ্ত নীল আকাশের পানে চেয়ে অন্তমনস্ক হয়ে ভাবছিলাম, কংগ্রেসের পাণ্ড ধারা—মন্ত্ৰী হবার তাদের কি উগ্র বাসনা। অথচ নিস্পৃহতার আবরণে সেটা গোপন করার কত না কৌশল। আইন যারা বানিয়ে দিলে একটা কথাও শুনলো না, ব্যাখ্যা নিয়ে তাদের সঙ্গে কি ঝুটোপুটি লড়াই। নিঃসন্দেহে প্রমাণ দিতে চায় ওদের মতলব ভাল নয় । বিড়ম্বনা আর বলে কারে । - সহসা খোলা দোর দিয়ে সিড়ির উপর ছায়া পড়ল কুকুরের। মুখ বাড়িয়ে দেখি অতিথি দাড়িয়ে ল্যাজ নাড়চে । দুপুরবেলা চাকরেরা সব ঘুমিয়েছে, ঘর তাদের বন্ধ, এই স্কযোগে লুকিয়ে সে একেবারে আমার ঘরের সামনে এসে হাজির ৷ ভাবলাম, দুদিন দেখতে পায়নি, তাই বুঝি আমাকে ও দেখতে এসেছে। ডাকলাম, আয় অতিথি, ঘরে আয় । সে এলো না, সেখানে দাডিয়েই ল্যাজ নাড়তে লাগলো । জিজ্ঞাসা করলাম,--খাওয়া হয়েছে ত রে ? কি খেলি আজ ? হঠাৎ মনে হলো ওর চোখ দুটো যেন ভিজেভিজে, যেন গোপনে আমার কাছে কি একটা ও নালিশ জানাতে চায়। চাকরদের ইকি দিলাম, ওদের দোর খোলার শব্দেই অতিথি ছুটে পালালে। জিজ্ঞাসা করলাম, ই রে, কুকুরটারে আজ খেতে দিয়েছিল ? আঙ্কে, না। মালী-বোঁ ওরে তাড়িয়ে দিয়েছে যে । আজ যে অনেক খাবার বেঁচেছে, সে সব হ’ল কি ? মালী-বোঁ চেচে-পূচে নিয়ে গেছে। হাঙ্গামা শুনে বন্ধু ঘুম ভেঙে চোখ রগড়াতে রগড়াতে ঘরে এলেন, মুচকি হেসে বললেন, দাদার এক কাও ! মান্থৰে খেতে পায় না, পথের কুকুরকে ডেকে খাওয়ানো ! বেশ ! বন্ধু জানেন এর চেয়ে অকাট্য যুক্তি আর নেই। মাছুষকে еве