প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/১১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ਟੋੜੜ੍ਹਾਂਭੇਵ ਭੋਫੋਫਸ $ বৎসর পাঁচ-ছয় পূৰ্ব্বে বাবুগঞ্জের বৈকুণ্ঠ মজুমদারের মুদির দোকান যখন অনেক প্রকার ঝড়-ঝাপটা সহ করিয়াও টিকিয়া গেল, তখন অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করিল। কারণ, কি করিয়া যে বৈকুণ্ঠ তাল সামলাইল তাহ কেহই জানে না। সেই অবধি দোকানখানি ধীরে ধীরে উন্নতির পথেই অগ্রসর হইতেছিল। আবার তেমন দুঃখ-কষ্ট আর যখন রহিল না, অথচ বৈকুণ্ঠ তাহার বড়ছেলে গোকুলকে ইস্কুল ছাড়াইয়া নিজের দোকানে ভৰ্ত্তি করিয়া দিল, তখন পাড়ার পাচজন কম আশ্চৰ্য্য বোধ করিল না। তাহারা বৈকুণ্ঠের আচরণ সম্বন্ধে বলাবলি করিতে লাগিল, দেখলে বুড়োর ব্যবহার। না হয় ছেলেটির তেমন ধার নাই-এক বছর না হয় কেলাসে উঠতেই পারে নাই ; তাই বলে এই কাজ ! ওর মা বেঁচে থাকলে কি এরূপ করতে পারত ! কই ছাড়িয়ে দিক দেখি ওর ছোটছেলে বিনোদকে ! ছোটগিল্পী বেঁটিয়ে বিষ ঝেড়ে দেবে। বস্তুতঃ গোকুল ছেলেটি মেধাবী ছিল না। ক্লাসে সে কোনদিনই প্রায় ভাল পড়া বলিতে পারিত না। পরীক্ষার ফল বাহির হইলে, সে মুখখানি স্নান করিয়া তাহার বিমাতার কাছে আসিয়া কাদিয়া ফেলিল । বিমাতা তাহাকে কোলে টানিয়া, সস্নেহে মাথায় মুখে হাত বুলাইয়া দিয়া স্নিগ্ধ-স্বরে কহিলেন, গোকুল, বেঁচে থাকতে গেলে এমন শত শত দুঃখ সইতে হয় বাবা! মনের কষ্ট যে ছেলে হাসিমুখে সহ করে আবার চেষ্টা করে, সেই ত ছেলের মত ছেলে । কেঁদো না বাবা, আবার মন দিয়ে পড়, আসচে বছর পাশ হবে। ছোটছেলে বিনোদ, লাফাইতে লাফাইতে বাড়ি আসিল। সে দাদার চেয়ে বছরছয়েক ছোট, তিন-চার ক্লাস নীচেও পড়ে ; কিন্তু সে একেবারে প্রথম হইয়া ডবল প্রমোশন পাইয়াছে। পুত্রের স্বসংবাদ শুনিয়া মা তাহাকে কোলে টানিয়া লইলেন এবং পুলকিত-চিত্তে অসংখ্য আশীৰ্ব্বাদ করিলেন। - واه في