প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/১৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈকুণ্ঠের উইল বল গে দেখি যে, তুই বিনোদবাবুদের বাড়ির দাসী! তোকে ডেকে নিয়ে বসিয়ে হাজারটা খবর নেবে, তা জানিস্ ? কিন্তু ঐ যে কথায় বলে, গায়ের যুগী ভিক্ষে পায় না ! এখানকার কোন ব্যাট কি তারে চিনতে পারলে ? মুখখানি একেবারে শুকিয়ে গেছে দেখলি, না রে ? ঝি ঘাড় নাড়িয়া বলিল, মুখখানি দেখলে চোখে আর জল রাখা যায় না বড়বাৰু! গোকুলের চোখ দিয়া দর দর করিয়া জল গড়াইয়া পড়িল । উত্তরীয় অঞ্চলে আশ্র মুছিয়া কহিল, তুই তাকে মানুষ করেচিস হাবুর মা, তুই শুধু তাকে চিনতে পেরেচিল। আহা ! চিরটা কাল তার হেসে-খেলে আমোদ-আহলাদ করে লেখাপড়া নিয়েই কেটেচে । কবে এ-সব হাঙ্গামা তাকে পোয়াতে হয়েচে বল দেখি ? আর উইল করে বিষয় দেব না বললেই দেব না ! তার বাপের বিষয় নয় ? কোন শালা আটকায় ? কি করেচে সে । চুরি করেচে ? ভাকাতি করেচে ? খুন করেচে ? কোন শালা দেখেচে ? তবে কেন বিষয় পাবে না বল দেখি শুনি ? আইন-আদালত নেই। বিনোদ নালিশ করলে আমাকে যে বাবা বলে অর্ধেক বিষয় কড়ায়-গণ্ডায় তাকে চুলটিরে ভাগ করে দিতে হবে, তা জানিস্ । ঝি সায় দিয়া বলিল, তা দিতে হবে বই কি বাবু। গোকুল উৎসাহে চোখ-মূখ উদ্দীপ্ত করিয়া কহিল, তবে তাই বল না! আর এই মা-টি ! তুই মেয়েমাস্থ্য, মেয়েমাহুষের মত থাক না কেন ? তুই কেন উইল করার মতলব দিতে গেলি ? এইটে কি তোর মায়ের মত কাজ হ’লে ? ধৰ্ম্ম নেই ? তিনি দেখচেন না ? নির্দোষকে কষ্ট দিলে— তার কাছে তোকে জবাব দিতে হবে না ? আর বিষয় ! ভারি বিষয়-আঞ্জ বাদে কাল সে যখন হাইকোর্টের জঙ্গ হবে—সে ত আর কেউ আটকাতে পারবে না—তখন কি করে রাখবি বিষয় ? এ-সব ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে না ! এখন স-মানে না দিলে তখন অপমান হয়ে দিতে হুবে যে ! হাবুর মা খুনী হইয়া উঠিল। সে বিনোদকে মানুষ করিয়াছিল—এই সমস্ত উইলটুইল তাহার একেবারে ভালই লাগে নাই; কহিল, আচ্ছা বড়বাবু, তুমি তাই কেন ছোটবাবুকে ডেকে বল না যে, তোর বিষয়-আশয় ভাই তুই নে। তুমি দিলে ত জার কারুর না বলবার জো নেই । . কিন্তু এইখানেই ছিল গোকুলের আসল খটকা। সে খানিকক্ষণ চাহিয়া থাকিয় কহিল, তবে সবাই যে বলে, আমার দেবার সাধ্যি নেই। বাবার উইল ত রদ করতে পারিনে হাবুর মা। আমাদের বড়ৰোঁর মামাতে ভাই একজন মস্ত মোক্তার-লে নাকি ❖: ግ