প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/১৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈকুণ্ঠের উইল র্যাডুয্যেমশাই দুই হাত দুইদিকে প্রসারিত করিয়া বলিয়া উঠিলেন, না না, গোকুল, এ-সব চক্ষু-লজ্জার কাজ নয় । তাঁকে আমরা রাখতে পারব না— কোনমতেই না। তার বড় আম্পৰ্দ্ধা । আমরা তাকে চাইনে তা বলে দিচ্চি । প্রত্যুত্তরে গোকুল তেমনি বিনীত-কণ্ঠে কহিল, কিন্তু মা তাকে চান। তিনি যাকে বাহাল করচেন তাকে ছাড়িয়ে দেবার সাধ্য কারুর নেই। বাবা আমাকে সে ক্ষমতা দিয়ে যাননি ; বলিয়া গোকুল পুনরায় মুখ হেঁট করিল। তাহার এই একাত্ত অপ্রত্যাশিত উত্তর, এই শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠস্বর শুনিয়া উভয়েই হতবুদ্ধি হইয়া গেলেন। কিছুক্ষণ স্থির থাকিয়া বাড়য্যেমশাই কহিলেন, তা হলে সে থাকবে বল ? গোকুল কহিল, আজ্ঞে হঁ্য । চকোত্তিমশায়ের উপর আমার আর কোন হাত নেই । স্বাডুয্যেমশাই ভয়ে বলিলেন, তা হলে রায়মশায়ের কি-রকম হবে ? গোকুল কহিল, উনি বাড়ি যান। মা কোনমতেই ওঁকে এখানে রাখতে চান না। আর চাকরি ছাড়ায় ক্ষতি যা হয়েছে, সে আমি মাকে জিজ্ঞেস করে পাঠিয়ে দেব । বলিয়া কাহারও উত্তরের জন্য অপেক্ষামাত্র না করিয়া প্রস্থান করিল। সবাই মনে করিয়াছিল এতবড় অপমানের পর রায়মশাই আর তিলাৰ্দ্ধ অবস্থান করিবেন না । কিন্তু আট-দশদিন কাটিয়া গেল—এই মনে করার বিশেষ কোন মূল্য দেখা গেল না। বোধ করি বা কন্যা-জামাতার প্রতি অসাধারণ মমতাবশতঃই তিনি ছোট কথা কানে তুলিলেন না এবং সরেজমিনে উপস্থিত থাকিয়া অহৰ্নিশি তাহাদের হিতচেষ্টা করিতে লাগিলেন । কিন্তু এই হিতাকাঙ্ক্ষার প্রবল দাপটে একদিকে গোকুল নিজে যেমন পীড়িত ও সংক্ষুব্ধ হইয়া উঠিতে লাগিল, ওদিকে বাটীর মধ্যে ভবানীও তেমনি প্রতি মুহূর্বেই অতিষ্ঠ হইয়া উঠিতে লাগিলেন। বন্ধু ও তাহার পিতার পরিত্যক্ত শব্দভেদী বাণ খাইতে-শুইতে-বসিতে র্তাহার দুই কানের মধ্যে দিয়া অবিশ্রাম বুকে বিধিতে লাগিল । সেদিন তিনি আর সহ করিতে না পারিয়া বধুমাতাকে ডাকিয়া বলিলেন, বেীমা, গোকুল কি চায় না যে, আমি বাড়িতে থাকি ? বেীমা জবাব ইচ্ছা করিয়াই দিল না-মাথা হেঁট করিয়া নখের কোণ খুঁটিতে লাগিল । - ভবানী কিছুক্ষণ স্থির থাকিয়া কহিলেন, বেশ, তাই যদি তার ইচ্ছে, সে নিজে এসে স্পষ্ট করে বলে না কেন ? এমন করে তোমার ভাইকে দিয়ে, তোমার বাপকে দিয়ে জামাকে দিবারাত্র অপমান করাচ্ছে কেন ? 为姆红 جة لاسسس لاه لا