প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/১৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अंब्र६-नाश्डिं-न«है মামুষ—মইলে বেন্দার বাপের সাধ্যি কি, সে মাকে আমার জোর করে নিয়ে আসে ? কেন, আমি ছেলে নই? ইচ্ছে করি যদি, এখনি জোর করে নিয়ে যেতে পারিনে ? বাবার এই হ’লো আসল উইল—তা জানিস্ হাবুর মা ? শুধু দু’কলম লিখে দিলেই উইল হয় না। হাবুর মা চোখ টিপিয়া ইঙ্গিতে জানাইল বিনোদ ঘরে আছে। গোকুল দলের গেলাসটা রাখিয়া দিয়া জুতা পায়ে দিয়া দ্বিতীয় কথাটি না কহিয়া চলিয়া গেল । রাত্রি নটা-দশটার সময় হঠাৎ দোকানের চক্রবর্তী আসিয়া হাজির। জিজ্ঞাসা করিল, মা, বড়বাবু এখনো বাড়ি যাননি—এখান থেকে খেয়ে কখন গেলেন ? ভবানী আশ্চর্ঘ্য হইয়া কহিলেন, সে ত এখানে খায়নি। তাগাদার পথে শুধু এক গেলাশ জল খেয়ে চলে গেল । চক্ৰবৰ্ত্ত কহিল, এই নাও । আজ বড়বাবুর জন্মতিথি। বাড়ি থেকে ঝগড়া করে বলে এলেচে, মায়ের প্রসাদ পেতে যাচ্ছি। তা হলে সারাদিন খাওয়াই হয়নি দেখচি ! শুনিয়া ভবানীর বুক ফাটিয়া যাইতে লাগিল । বিনোদ পাশের ঘরেই ছিল, চক্রবত্তীর সাড়া পাইয়া কাছে আসিয়া বসিল । তামাসা করিয়া কহিল, কি চক্ৰবৰ্ত্তমশাই, নিমাই রায়ের তবে চাকরি হচ্চে কেমন ? চক্রবর্তী আশ্চৰ্য্য হইয়া কহিল, নিমাই রায় ? রামঃ—সে কি দোকানে ঢুকতে পারে না কি ? বিনোদ বলিল, শুনতে পাই দাদাকে সে গ্রাস করে বসে আছে ? চক্রবর্তী ভবানীকে দেখাইয়া হাসিয়া কহিল, উনি বেঁচে থাকতে সেটি হবার জে নেই ছোটবাবু! আমাকে তাড়িয়ে সৰ্ব্বস্বর মালিক হতেই এসেছিলেন বটে, কিন্তু মায়ের একটা হুকুমে সব ফেলে গেল । এখন ঠকিয়ে-মজিয়ে ছ্যাচড়ামি করে যা দু’পয়সা আদায় হয়, দোকানে হাত দেবার জো নেই। বলিয়া চক্ৰবৰ্ত্তী সেদিনের সমস্ত ইতিহাস বিবৃত করিয়া কহিল, বড়বাবু একটুখানি বড্ড সোজা মানুষ কি না, লোকের প্যাচ-স্যাচ ধরতে পারে না। কিন্তু তা হলে কি হয়, পিতৃমাতৃভক্তি যে অচল—সেই যে বললেন, মায়ের হুকুম রদ করবার আমার সাধ্যি নেই—তা এত কাদা-কাটি, ঝগড়া-ঝাটি—না, কিছুতে না। আমার বাপের হুকুম—মায়ের হুকুম ! আমি যেমন কৰ্ত্ত ছিলাম—তেমনি আছি ছোটবাৰু। } (to