প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হরিলক্ষ্মী ছেলে নিজের মনে ছবি দেখিতেছিল । হরিলক্ষ্মী তাহাকে ডাকিয়া কহিল, নিখিল, কাছে এস ত বাবা ? সে কাছে আপিলে লক্ষ্মী বাক্স খুলিয়৷ একগাছি সরু সোনার হার তাহার গলায় পরাইয়ু দিয়া বলিল, যাও খেলা কর গে । মায়ের মুখ গষ্ঠীর হইয়া উঠিল, সে জিজ্ঞাসা করিল, আপনি কি ওটা দিলেন না-কি ? লক্ষ্মী স্মিতমুখে জবাব দিল, দিলাম বই কি ! মেজবোঁ কহিল, আপনি দিলেই বা ও নেবে কেন ? লক্ষ্মী অপ্রতিভ হইয়া উঠিল, কহিল, জ্যাঠাইম কি একটা হার দিতে পারে না ? মেজবোঁ বলিল, তা জানিনে দিদি, কিন্তু এ কথা নিশ্চয় জানি, মা হয়ে আমি নিতে পারিনে। নিখিল, ওটা খুলে তোমার জ্যাঠাইমাকে দিয়ে দাও । দিদি, আমরা গরীব, কিন্তু ভিখিৱি নই। কোন একটা দামী জিনিস পাওয়া গেল বলেই দু'হাত পেতে নেব, তা নিইনে । লক্ষ্মী স্তন্ধ হইয়া বসিয়া রহিল । আজও তাহার মনে হইতে লাগিল, পৃথিবী দ্বিধা হও । যাইবার সময় সে কহিল, কিন্তু এ-কথা তোমার ভাণ্ডরের কানে যাবে মেজবোঁ । মেজবোঁ বলিল, তার অনেক কথাই আমার কানে আসে, আমার একটা কথা র্তার কানে গেলে কান অপবিত্র হবে না। লক্ষ্মী কহিল, বেশ, পরীক্ষা করে দেখলেই হবে। একটু থামিয়া বলিল, আমাকে খামোক অপমান করার দরকার ছিল না মেজবোঁ । আমিও শাস্তি দিতে জানি । মেজবে বলিল, এ আপনার রাগের কথা। নইলে আমি ষে আপনাকে অপমান করিনি, শুধু আমার স্বামীকেই খামোক অপমান করতে আপনাকে দিই নি—এ বোঝবার শিক্ষা আপনার আছে । লক্ষ্মী কহিল, তা আছে, নেই শুধু তোমাদের পাড়াগেয়ে মেয়েদের সঙ্গে কোদল করবার শিক্ষা । মেজবে এই কটুক্তির জবাব দিল না, চুপ করিয়া রহিল। লক্ষ্মী চলিতে উদ্যত হইয়া বলিল, ওই হারটুকুর দাম যাই হোক, ছেলেটাকে স্নেহবশেই দিয়েছিলাম, তোমার স্বামীর দুঃখ দূর হবে ভেবে দিইনি। মেজবোঁ, বড়লোক মাত্রেই গরীবকে শুধু অপমান করে বেড়ায়, এইটুকুই কেবল শিখে রেখেচ, ভালবাসতেও যে পারে, এ তুমি শেখোনি । শেখা দরকার। তখন কিন্তু গিয়ে হাতে-পায়ে প'ড়ো না । প্রত্যুত্তরে মেজবে শুধু একটু মুচকি হাসিয়া বলিল, না দিদি, সে ভয় তোমাকে করতে হবে না । 를 *) ծ օն-ՀՊ