প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাই শুনিলাম, আজ কোথায় নাকি তাহাদের সাপ-ধরার বায়না আছে এবং তাহারা প্রস্তুত হইয়াছে, আমিও অমনি সঙ্গে যাইবার জন্য লাফাইয়া উঠিলাম। ছেলেবেলা হইতেই দুটা জিনিসের উপর আমার প্রবল সখ ছিল । এক ছিল গোখরো কেউটে সাপ ধরিয়া পোষা, আর ছিল মন্ত্র-সিদ্ধ হওয়া । সিদ্ধ হওয়ার উপায় তখনও খুজিয়া বাহির করিতে পারি নাই, কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়কে ওস্তাদ লাভ করিবার আশায় আনন্দে উৎফুর হইয়া উঠিলাম। সে তাহার নামজাদা শ্বশুরের শিষ্ট, স্বতরাং মস্ত লোক । আমার ভাগ্য যে অকস্মাং এমন স্বপ্রসন্ন হইয়া উঠিবে, তাহা কে ভাবিতে পারিত ! কিন্তু শক্ত কাজ এবং ভয়ের কারণ আছে বলিয়া প্রথমে তাহারা উভয়েই আপত্তি করিল, কিন্তু আমি এমনি নাছোড়বান্দী হইয়া উঠিলাম যে, মাসখানেকের মধ্যে আমাকে সাগরেদ করিতে মৃত্যুঞ্জয় পথ পাইল না। সাপ-ধরার মন্ত্র এবং হিসাব শিখাইয়া দিল এবং কজিতে ওষুধ-সমেত মাদুলি বাধিয়া দিয়া দস্তুরমত সাধুড়ে বানাইয়া তুলিল । মন্ত্রটা কি জানেন ? তার শেষটা আমার মনে আছে— ওরে কেউটে তুই মনসার বাহন— মনসা দেবী আমার মা— ওলট-পালট পাতাল ফেঁড়— টোড়ার বিষ তুই নে, তোর বিষ টোড়াৱে দে– —দুধরাজ, মণিরাজ ! কার আজ্ঞে—বিষহরির অাজে ! ইহার মানে যে কি, তাহা আমি জানি না । কারণ, যিনি এই মন্ত্রের স্রষ্টা ঋষি ছিলেন–নিশ্চয়ই কেহ না কেহ ছিলেন–র্তার সাক্ষাং কখনো পাই নাই । অবশেষে একদিন এই মন্ত্রের সত্য-মিথ্যার চরম মীমাংসা হইয়া গেল বটে, কিন্তু যতদিন না হইল, ততদিন সাপ-ধরার জন্য চতুর্দিকে প্রসিদ্ধ হইয়া গেলাম। সবাই বলাবলি করিতে লাগিল, হ্যা, স্তাড়া একজন গুণী লোক বটে। সন্ন্যাসী অবস্থায় কামাখ্যায় গিয়া সিদ্ধ হইয়া আসিয়াছে ; এতটুকু বয়সের মধ্যে এতবড় ওস্তাদ হইয়া অহঙ্কারে আমার আর মাটিতে পা পড়ে না, এমনি জে হইল । বিশ্বাস করিল না শুধু দুইজন। আমার শুরু যে, সে ত ভাল মন্দ কোন কথাই বলিত না । কিন্তু বিলাসী মাঝে মাঝে মুখ টিপিয়া হাসিয়া বলিত, ঠাকুর, এ-সব ভয়ঙ্কর জানোয়ার, একটু সাবধানে নাড়া-চাড়া করো। বস্তুতঃ বিষদাত ভাঙা, সাপের २धै७8