প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৩৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহাতছাত্র পদত্যাগ সংবাদ আসিয়াছে, মহাত্মা গান্ধী কংগ্রেসের নেতৃত্ব পরিত্যাগ করিয়াছেন। খবরটা আকস্মিক নয়। কিছুদিন যাবৎ এমন একটা সম্ভাবনা বাতাসে ভাসিতেছিল, মহাত্মা রাজনীতির প্রবাহ হইতে আপনাকে অপস্থত করিয়া স্বী বিশাল ব্যক্তিত্ব, বিরাট কৰ্ম্মশক্তি ও একাগ্রচিত্ত ভারতের আর্থিক, নৈতিক ও সামাজিক সমস্তার সমাধানে নিয়োজিত করিবেন। তাহাই হইয়াছে। দেখা গেল, জাতীয় মহাসমিতির সভামণ্ডপে বহু কৰ্মী, বহু ভক্ত, বহু বন্ধুজনের আবেদন-নিবেদন অনুনয়-বিনয় তাহাকে সঙ্কল্পচু্যত করিতে পারে নাই। পারার কথাও নয়। বহুবার বহু বিষয়েই প্রমাণিত হইয়াছে, অশ্রুধারার প্রবলতা দিয়া কোনদিন মহাত্মাঙ্গীকে বিচলিত করা যায় না। কারণ, তার নিজের যুক্তি ও বৃদ্ধির বড় সংসারে আর কিছু আছে, বোধ হয় তিনি ভাবিতেই পারেন না। কিন্তু তাই বলিয়া এই কথাই বলি না, এ বৃদ্ধি সামান্ত বা সাধারণ । এ বুদ্ধি অসামান্ত, অসাধারণ । অনুরাগীগণের ঢাকিয়া রাখার বহু চেষ্টা সত্ত্বেও এ বুদ্ধি তাহার কাছে অবশেষে এ সত্য উদঘাটিত করিয়াছে যে, কংগ্রেসে র্তাহার প্রয়োজনীয়তা অন্ততঃ বৰ্ত্তমানের জন্য শেষ হইয়াছে, অথচ বিস্ময় এই যে, র্তাহার দুঃসহ প্রভুত্বে র্যাহারা নিজেদের উৎপীড়িত লাঞ্ছিত জ্ঞান করিয়াছেন, মহাত্মার চিস্তা ও কাৰ্য্যপদ্ধতির অনুধাবন করিতে পদে পদে র্যাহারা দ্বিধাগ্রস্থ হইয়াছেন, নেপথ্যে অনুৰোগ-অভিযোগের র্যাহীদের অবধি ছিল না, তাহারাও সে কথা প্রকাতে উচ্চারণ করিতে সাহস করেন নাই। বরঞ্চ, নানারূপে তাহার প্রসাদ-লাভের জন্য যত্ন করিয়া সেই নেতৃত্বেই তাহাকে প্রতিষ্ঠিত রাধিবার জন্য প্রাণপণ করিয়াছেন। বোধ করি শঙ্কা তাহাদের এই ষে, এত বড় ভারতে নেতৃত্ব করিবার লোক আর র্তাহারা খুজিয়া পাইবেন না। কিন্তু খুজিয়া না পাওয়া গেলেও এ-কথা বলিব ষে, যেখানে স্বাধীন চিন্তা স্বাধীন উক্তি স্বাধীন অভিমত বারংবার প্রতিরুদ্ধ হইয়া জাতীয় মহাসমিতিকে পৰ্বপ্রায় করিয়া আনিয়াছে, সেখানে মহাত্মার অথবা কাহারও নিরবচ্ছিন্ন সাৰ্ব্বভৌম আধিপত্য কল্যাণকর নয়। আজ মহাত্মার মত, পথ ও যুক্তির আলোচনা করিব না। চরকায় দেশের অধোগতি প্ৰতিহত করিতে পারে কি না, অদ্ৰোহ অসহযোগে দেশের রাজনৈতিক মুক্তি আনিতে পারে কি না, আইন-অমান্ত আন্দোলনের শেষ পরিণাম কি, এ সকল శ్రీశ్రీy