প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৩৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ হোলো যার নীরস, বাঙলাদেশের বালবিধবার মতো পবিত্র, সে প্রথম বৌবনের আবেগে ষত কিছুই করুক, দু’দিনে সব মরুভূমির যত শুষ্ক শ্ৰীহীন হয়ে উঠবে। ভয় হয়, ক্রমশঃ হয়ত তোমার লেখার মধ্যেও অসঙ্গতি দেখা দেবে। সবচেয়ে জ্যাণ্ড লেপ সেই, যা পড়লে মনে হবে গ্রন্থকার নিজের অন্তর থেকে সব-কিছু ফুলের মতো বাইরে ফুটিয়ে তুলেছে। দেখোনি বাংলাদেশে আমার সব বইগুলোর নায়ক-নায়িকাকেই ভাবে এই বুঝি গ্রন্থকারের নিজের জীবন, নিজের কথা । তাই সঙ্গন-সমাজে আমি অপাংক্তেয়। কতই না জনশ্রুতি লোকের মুখে মুখে প্রচলিত। আমার কথা যাক। তোমার নিজের কথায় একদিন আমি ভেবেছিলাম, মন্টু ষে ব্যারিস্টার হয়ে আসেনি সে ভালোই হয়েছে। ন-ই করলে ও রাশি রাশি টাকা রোজগার, নাই চড়ে বেড়ালে৷ মটরগাড়ি, না-ই হোলো হাই সার্কেলের কেও-কেট । ওর অভাব নেই, যা-আছে বেশ চলে যাবে,—শুধু সঙ্গীত ও সাহিত্যে দেশকে অনেক কিছু যেন মন্টু দিয়ে যেতে পারে। সে নিরানন্দ দেশের আনন্দ্রের ভোজ,— সেই আমাদের ঢের। আমি আরও একটা কথা ভাবতাম। মন্টু এই ষে দেশে দেশে ঘুড়ে বেড়ায়, ও অনেক জাত অনেক সমাজে অনেক লোকের সঙ্গে বাঙলাদেশের একটা স্নেহ ও শ্রদ্ধায় বাধন বেঁধে দিচ্ছে । একে সবাই চেনে, সবাই ভালোবাসে। মন্টুর সঙ্গে গেলে কোথাও আদরের অভাব ঘটবে না। কিন্তু সে আশা সে জানঙ্গে ছাই পড়লো। যাহার দেহের মনের আনঙ্গের সামাজিকতার স্বাধীনতার সীমা ছিল না, সে আজ এমনি দাসখং লিখে দিলে যে এক-পা বাড়াতে গেলেও আজ চাই ওর permission –ছাড়পত্র । এই হোল ওর মুক্তির সাধনা । গেলে দেশ, রইলো ওর কাল্পনিক স্বার্থ -সেই হোলো ওর বড়ো। আমিও অনেক পড়েচি, অনেক দেখেচি, অনেক কিছু করেচি—এ-কথা আমিও তো ভুলতে পারিনে। তাই, যে ষা বলে মেনে নিতে পারিনে, আমার বাধে। কিন্তু এ নিয়ে আলোচনা নিষ্ফল । আমার ছেলেবেলার একটা কথা আমার চিরদিন মনে থাকবে । মামার সঙ্গে স্তার গুরুদাসের (গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়) বাড়ি দুর্গাপূজোর নেমতর খেতে গেছি। গিয়ে দেধি গুরুদাসের প্রচণ্ড ক্ৰোধে মাথার বড় বড় কেশর ফুলে উঠেচে । একজন ছাত্র নাকি বলেছিল গঙ্গাস্থানে পাপ ক্ষয় হয়, সে বিশ্বাস করে না । গুরুদাস ক্ষিপ্ত হয়ে চীৎকার করে বলচেন যে, মানের প্রয়োজন নেই, গুৰু তীরে দাড়িয়ে গঙ্গা বলে গঙ্গা দর্শন করলে শুধু তার নিজের নয়, সাতপুরুষ যে পাপমুক্ত হয়ে অক্ষয় স্বৰ্গ-বাস করে এতে সন্দেহের অবকাশ কোনখানে ? কোন পাবও এ শাস্ত্রবাক্য অস্বীকার করিতে পারে । বলতে বলতে তিনি রাগে বাড়ির মধ্যে চলে গেলেন । মনে "לרפא