প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষোড়শী গেছে, কিন্তু আসল জিনিসে কোথাও এতটুকু ময়লা ধরেনি। সে যেমন সোজা, তেমন খাটি, তেমনি কঠিন । তার কথা আমার তোমার পানে চাইলেই মনে পড়ে। মনে হয় দেশশুদ্ধ লোকে সবাই ভুল করেচে, আসল কথা কেউ কিছুই জানে না । ষোড়শী । ( হৈমের হাতখানি নিজের হাতের মধ্যে টানিয়া লইয়া) আজ তোমাদের কেন যাওয়া হ’লো না হৈম ? বোধ হয় কাল যাওয়া হবে, না ? হৈম। আমার ছেলের কথা তুললেই তুমি রাগ কর, সে আর বলব না, কিন্তু ভয়ঙ্কর দুৰ্য্যোগের রাতে আমার এই অন্ধ মানুষটিকে যিনি হাতে ধরে নদী পার করে এনে নি:শব্দে দিয়ে গেছেন, তার পায়ের ধুলো না নিয়েই বা আমরা যাই কি করে ? কিন্তু যাবার আগে এই কথাটি আজ দাও দিদি, আপনার লোকের যদি কখনো দরকার হয়, এই প্রবাসী বোনটিকে তখন ভুলো না । হৈম। (ষোড়শীকে নীরব দেখিয়া ) কথা দিতে বুঝি চাও না দিদি ? ষোড়শী । কথা দিলাম, ভুলব না । ভূলিওনি হৈম । আঘাত পেয়ে আজই তোমাকে একখানা চিঠি লিখছিলাম, ভেবেছিলাম, তুমি চলে গেলে সেখান তোমাকে ডাকে পাঠিয়ে দেব। কিন্তু শেষ করতে পারলাম না, হঠাৎ মনে পড়ল এর জন্যে হয়ত তোমার বাবার সঙ্গেই শেষে বিবাদ বেধে যাবে। হৈম । যেতেও পারে। কিন্তু আরও যে একটা মস্ত কথা আছে দিদি । আমার এই অন্ধ মানুষটিকে তুমি রক্ষে করেচ, তার চেয়ে বড় সংসারে ত আমার কিছুই নেই। ষোড়শী। সত্যিই কিছু নেই হৈম ? হৈম । না, নেই। আর সত্যি কথাটিই বলে যাব বলে আজ যেতে পারিনি । ষোড়শী । ( হাসিয়া ) কিন্তু এই ছোট কথাটুকুর জন্তে ত একজনই যথেষ্ট ছিল ভাই, নিৰ্ম্মলবাবুকে ত অনায়াসে যেতে দিতে পারতে ? হৈম । একে ? একলা ? হায়, হায়, দিদি, বাইরে থেকে তোমরা ভাব প্রচণ্ড ব্যারিস্টার, মস্তলোক । কিন্তু আমিই জানি শুধু এই বিনি-মাইনের দাসীটিকে পেয়েছিলেন বলেই উনি জগতে টিকে গেলেন। বাস্তবিক দিদি, পুরুষমানুষদের এই এক আশ্চৰ্য্য ব্যাপার! বাইরের দিকে যিনি যত বড়, যত দুৰ্দ্দাম, যত শক্তিমান, ভিতরের দিকে তিনি তেমনি অক্ষম, তেমনি দুর্বল, তেমনি অপটু ৷ দরকারের সময় কোথায় হারাবে এদের কাগজ-পত্র, বার হবার সময়ে কোথায় যাবে জামা-কাপড়পোষাক, রাস্তায় বেরিয়ে কোথায় ফেলবে পকেটের টাকাকড়ি—কোন ভরসায় একলা ছেড়ে দিই বল ত ? ( সহাস্তে ) একটুখানি চোখের আড়াল করেছিলাম বলেই ত সেদিন অমন বিভ্ৰাট বাধিয়েছিলেন। ভাগ্যে তুমি ছিলে । HO