প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় ভাঙা বেড়ার ফাক খুজে বেড়াচ্চি এতবড় অবুঝ আমি নই মা, কিন্তু এ গোলোকধর্ণধার বাইরের পথই বা কে বার করেচে বলো তো ? যে লোকটাকে কাল আমি বিদায় দিলুম, আমার স্বামীর চেয়ে তাকে কখনো বড় মনে করিনি, কখনো শ্রদ্ধা করিনি, কোনদিন ভালোবাসিনি, তবু তারই ঘরে আমার একটা যুগ কেটে গেল কি করে ? এবার সারদা কথা কহিল, সলজে বলিল, আজ না হোক, কিন্তু সেদিনও কি রমণীবাবুকে আপনি ভালোবাসেননি মা ? না মা, সেদিনও ন!—কোনদিনই না । তবু পদস্খলন হোলো কেন ? সবিতা ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া স্নান হাসিয়া বলিলেন, পদস্খলনের কি কেন থাকে সারদা ? ও ঘটে আচমকা সম্পূর্ণ অকারণ নিরর্থকতায় । এই বারো-তেরো বছরে কত মেয়েকেই তো দেখলুম, আজ হয়তে সৰ্ব্বনাশের পাকের তলায় কোথায় তারা তলিয়ে গেছে, সেদিন কিন্তু আমার একটা কথারও তারা জবাব দিতে পারেনি, আমার পানে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দু'চোখ জলে ভেসে গেছে—ভেবেই পাইনি আপন অদৃষ্ট ছাড়া আর কাকে তারা অভিশাপ দেবে। দেখে তিরস্কার করবো কি, নিজেরই মাথা চাপড়ে কেঁদে বলেচি, নিষ্ঠুর দেবতা ! তোমার রহস্যময় সংসারে বিনা দোষে দুঃখের পালা গাইবার ভার দিলে কি শেষে এই সব হতভাগীদের পরে ! কেন হয় জানিনে সারদা, কিন্তু এমনিই হয়। সারদা এবারেও সায় দিল না, মাথা নাড়িয়া বাধা-রাস্তার পাকা-সিদ্ধান্তর অনুসরণে বলিল, তাদের দোষ ছিল না এমন কথা আপনি কি করে বলচেন মা ? সবিতা উত্তর দিলেন না, আর তাহাকে বুঝাইবার চেষ্টা করিলেন না, শুধু নিশ্বাস ফেলিয়া জানালার বাইরে শূন্ত-চোখে পথের দিকে চাহিয়া রছিলেন। গাড়ি আসিয়া যথাস্থানে থামিল, মহাদেব দরজা খুলিয়া দিতে উভয়ে নামিয়া পড়িলেন, গাড়ি কালকের মত অপেক্ষা করিতে অন্যত্র চলিয়া গেল । সতেরো নম্বর বাড়ির সদর দরজা খোলা ছিল, উভয়ে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন নীচে কেহ নাই, সিড়ি দিয়া উপরে উঠতেই চোখে পড়িল একটি ষোলো-সতেরো বছরের মেয়ে বারান্দায় বসিয়া তরকারী কুটিতেছে, সে দাড়াইয়া উঠিয়া অভ্যর্থনা করিয়া বলিল, জাহ্ন। রেলিঙের উপরে আসন ছিল, পাতিয়া দিল এবং সবিতার পায়ের ধূলা লইয়া প্ৰণাম করিল। এই মেয়ে আজ এতবড় হইয়াছে। আসনে বসিয়া সবিতা কিছুতেই নিজেকে সামলাইতে পারিল না, উচ্ছসিত অশ্র-বাম্পে সমস্ত দেহ বারংবার কঁাপিয়া উঠিল এবং পরক্ষণেই দুই চক্ষু প্লাবিত করিয়া অনর্গল জল পড়িতে লাগিল। সবিতা বুঝিলেন ילה