প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बंब्र९-जांश्छिा-न«यंई তাহার স্বামী ও কন্যার দিনের পর দিন কাটিয়া আজ দুৰ্দ্দশার শেষ সীমায় আসিয়া ঠেকিয়াছে। অথচ, কিসের জন্য ? এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় করিয়া বিধিল সবিতাকে । যে-ভার ছিল স্বভাবতঃ তাহারি আপনার, সে-বোঝা যদি অপরে বহিতে না পারে, সে দোষ কি তাহাকে দিবার ? তাহার নিজের ছাড়া অপরাধ কার ? অধৰ্ম্মের মার যে এমন নির্দয়, একাকী এত দুঃখও যে সংসারে স্বষ্টি করা যায়, তাহার মূৰ্ত্তি যে এত কদাকার, ইতিপূৰ্ব্বে এমন করিয়া আর তিনি উপলব্ধি করেন নাই! প্লানি ও ব্যথার গুরুভারে নিশ্বাস পর্য্যন্ত যেন রুদ্ধ হইয়া আসিল । তথাপি প্রাণপণ বলে কেবলি মনে মনে বলিতে লাগিলেন, ইহার প্রতিকার কি নাই ? সংসারে চিরস্থায়ী তো কিছুই নয়, শুধু কি তাহার দুষ্কৃতিই জগতে অবিনশ্বর ? কল্যাণের সকল পথ চিরকুদ্ধ করিয়া কি শুধু সে-ই বিদ্যমান রহিবে, কোনদিনই তাহার ক্ষয় হুইবে না ! মা, বাবা এসেচেন ! সবিতা মুখ তুলিয়া দেখিলেন সম্মুখে দাড়াইয়া ব্ৰজবাৰু। মুহূর্তের জন্য তিনি সমস্ত বাধা-ব্যবধান ভুলিয়া উঠিয়া দাড়াইয়া বলিলেন, এত দেরি করলে যে ? বাইরে বেরুলে কি তুমি ঘর-সংসারের কথা চিরকালই ভুলে যাবে। দেখে তো বেলার দিকে চেয়ে ? - ব্ৰজবাবু মহা অপ্রতিভভাবে বিলম্বের কৈফিয়ৎ দিতে লাগিলেন ; সবিতা বলিলেন, কিন্তু আর বেলা করতে পারবে না। ঠাকুর-পূজোটি আজ কিন্তু তোমাকে সংক্ষেপে সারতে হবে তা বলে দিচ্চি ! তাই হবে নতুন-বে, তাই হবে। রেণু, দে তো মা আমার গামছাট, চট্‌ করে নেয়ে আসি । না বাবা, তুমি একটু জিরোও । দেরি যা হবার হয়েচে, আমি তামাক সেজে हेि ! মা ও পিতা উভয়েই কন্যার মুখের প্রতি চাহিয়া দেখিলেন ; ব্ৰজবাবু কহিলেন, মেয়ে নইলে বাপের উপর এত দরদ আর কারও হয় না! নতুন-বে। ওর কাছে তুমি ঠকলে ! এই বলিয়া তিনি হাসিলেন। সবিতা কহিলেন, ঠকতে আপত্তি নেই মেজকওঁ, কিন্তু এই একমাত্র সত্যি নয়। সংসারে আর একজন আছে তার কাছে মেয়েও লাগে না, মাও না। এই বলিয়া তিনিও হাসিলেন । এই হাসি দেখিয়া ব্ৰজবাবু হঠাৎ যেন চমকিয়া গেলেন । কিন্তু আর কোন কথা না বলিয়া জামা-কাপড় ছাড়িতে ঘরে চলিয়া গেলেন। সেদিন খাওয়া-দাওয়া চুকিল প্রায় দিনাস্ত-বেলায়। ব্ৰজবাৰু বিছানায় বসিয়া X • 8