প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ΣΣ এক সপ্তাহ পূৰ্ব্বে রাখাল আসিয়া বলিয়াছিল, নতুন-ম, সতেরো নম্বর বাড়িতে আপনি তো যাবেন ন—আজি সন্ধ্যাবেলায় যদি আমার বাসায় একবার পায়ের ধুলো দেন । কেন রাজু ? কাকাবাবুর জন্তে কিছু ফল-মূল কিনে এনেচি—ইচ্ছে তাকে একটু জল খাওয়াইতিনি রাজি হয়েচেন আসতে । কিন্তু আমাকে কি তিনি ডেকেচেন ? তিনি না ডাকুন আমি তো ডাকচি মা । কাল তারা চলে যাবেন দেশে, বলেচেন গুছিয়ে-গাছিয়ে তাদের ট্রেনে তুলে দিতে। সবিতা জানিতেন ব্ৰজবাবু কোথাও কিছু খান না, তাহাকে সম্মত করাইতে রাখালকে অনেক চেষ্টা করিতে হইয়াছে—বোধ হয় ভাবিয়াছে এ-কৌশলেও যদি আবার দুজনে দেখা হয়। রাখালের আবেদনের উত্তরে সবিতাকে সেদিন অনেক চিস্তা করিতে হইয়াছিল, স্নেহার্ক্স-চক্ষে তাহার প্রতি বস্তৃক্ষণ নীরবে চাহিয়া থাকিয়া অবশেষে বলিয়াছিলেন, না বাবা, আমি যাবো না। আমাকে দেখে তিনি শুধু দুঃখই পান, আর দুঃখ দিতে আমি চাইনে । আবার এক সপ্তাহ গত হইয়াছে রাখালের মুখে খবর মিলিয়াছে, ব্ৰজবাৰু মেয়ে লইয়া দেশে চলিয়া গেছেন। র্তাহার এ পক্ষের স্ত্রী-কন্যা রহিল কলিকাতায় ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে। রাখাল বলিয়াছে র্তাহাজের কোন শোক নাই, কারণ অর্থ-কষ্ট নাই। বাড়ি-ভাড়ার আয়ে দিন ভালোই কাটিবে। অলঙ্কারের পুজি তে রহিলই। সন্ধ্যার পরে একাকী বসিয়া সবিতা এই কথাগুলাই ভাবিতেছিলেন। ভাবিতেছিলেন, বারো বৎসরব্যাপি প্রতিদিনের সম্বন্ধ, অথচ কত শীঘ্ৰ কত সহজেই না ঘুচিয় যায়। তাহার নিজের কপাল যেদিন ভাঙে সেদিন সকালেও তিনি জানিতেন না, রাত্রিটাও কাটিবে না, সমস্ত ছাড়িয়া তাহাকে পথে বাহির হইতে হইবে। একাত্ত দুঃস্বপ্নেও সবিতা কি কল্পনা করিতে পারিতেন এতবড় ক্ষতি কাহারও সহে । তবু সহিল তো ? আবার সহিল তাহারই । বারো বছর কাটিয়া গেল আজও তিনি তেমনি বাচিয়া আছেন—তেমনিই দিনের পর দিন অবাধে বহিয়া গেল, কোথাও আটক খাইয়া বাধিয়া রহিল না । এ বিড়ম্বনা কেন যে ঘটিল আজও তাহার কারণ নিজে জানেন না। যতই ভাবিয়াছেন, আত্মধিক্কারে জলিয়া-পুড়িয়া যতবার নিজের বিচার নিজে করিতে গেছেন A e dA .