প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ততবারই মনে হইতেছে ইহার অর্থ নাই—হেতু নাই, ইহার মূল অনুসন্ধান করিতে যাওয়া বৃথা । কিংবা, হয়তো এমনই জগৎ—অঘটন অকারণে ঘটিয়াই জীবন-স্রোতে আর একদিকে প্রবাহিত হইয়া যায়। মানুষের বুদ্ধি কোথায় অন্ধ হইয়া মরে, নালিশ করিতে গিয়া আসামীর তল্লাস মিলে না । এদিকে রমণীবাবুও আর আসেন না । তিনি আস্থন এ ইচ্ছা সবিতা করেন না, কিন্তু বিস্মিত হইয়া ভাবেন, নিষেধ করামাত্রই কি সকল সম্বন্ধ সত্যই শেষ হইয়া গেল ! নিরবিচ্ছিন্ন একত্র-বাসের বারোটা বৎসর কোন চিহ্নই কোথাও অবশিষ্ট রাখিল না—নিঃশেষে মুছিয়া দিল ! হয়ত এমনিই জগৎ ! জগৎ এমনিই-কিন্তু এখানে আছে শুধুই কি অপচয় ? উপচয় কোথাও নাই। কেবল ক্ষতি ? তবে, কেন কাছে আসিয়া পড়িল সারদা ? তাহার মেয়ের মতে, মায়ের মতো । বাড়িতে অনেকগুলি ভাড়াটের মাঝে সেও ছিল একজন। শুধু নাম ছিল জানা, মুখ ছিল চেনা। কখনো দেখা হইয়াছে সিঁড়িতে, কখনো উঠানে, কখনো বা চলন-পথে ! সসঙ্কোচে সরিয়া গেছে, চোখে চোথে চাহিতে সাহস করে নাই। অকস্মাৎ কি ব্যাপার ঘটিল, কে দিল তাহার বাসা বাধিয়া সবিতার হৃদয়ের অন্তস্তলে! কিন্তু এই-ই কি চিরস্থায়ী ? কে জানে কবে সে আবার ঘর ভাঙিয়া এমনি সহসা অদৃপ্ত হইবে । আরও একজন আসিয়াছেন, তিনি বিমলবাবু। মৃদুভাষী ধীর প্রকৃতির লোক, স্বল্পক্ষণের জন্য আসিয়া প্রত্যহ খবর নিয়া যান কোথায় কি প্রয়োজন । হিতাকাঙ্ক্ষার আতিশয্যে উপদেশ দেওয়ার ঘটা নাই, বন্ধুতার আড়ম্বরে বসিয়া গল্প করার আগ্রহ নাই, কৌতুহলের কটুতায় পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রশ্ন করার প্রবৃত্তি নাই—দুই-চারিট সাধারণ কথাবার্তার পরেই প্রস্থান করেন। সময় যেন তাহার বাধা-ধরা। নিয়ম ও সংযমের শাসন যেন এই মানুষটির সকল কাজে সকল ব্যবহারে বড় মৰ্য্যাদা দিয়া রাখিয়াছে। তৰু তাহার চোখের দৃষ্টিকে সবিতা ভয় করেন। ক্ষুধার্ত শ্বাপদের দৃষ্টি সে নয়, সে দৃষ্টি ভদ্র মানুষের—তাই ভয় । সে চোখে আছে আর্তের মিনতি, নাই উন্মাদের ব্যাভিচার—শক্ষা শুধু তার এই কারণে। পাছে অতর্কিতে পরাতব আসে কখন এই পথে । * তিনি আসিলে আলাপ হয় দুজনের এইমতে— পূবের ঢাকা বারান্দায় একখানা বেতের চৌকি টানিয়া লইয়া বিমলবাবু বসিয়া বলেন, কেমন আছেন আজ ? সবিতা বলেন, ভালই তো আছি । কিন্তু ভালো তো দেখাচ্চে না ? কেমন শুকনো শুক্নে । $$e