প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সে লজ্জা বাড়িবে বই কমিবে না, তাই জোর করিয়া কোনমতে হাসির প্রয়াস করিয়া বলিল, একলা পেয়ে আমাকে তো অনেক কথাই বললে, কিন্তু সে থাকলে কি পারতে বলতে ? সারদা কহিল, বলার তখন তো দরকার হোতো না, কিন্তু আজ এলে তাকে অন্য কথা বলতুম। বলতুম, যে সারদা তোমাকে প্রাণের চেয়ে ভালবাসতে সে যে কত সয়েচে তার সাক্ষী আছেন শুধু ভগবান—যাকে বিয়ের নাম করে এনে ফাকি দিলে, এটো-পাতের মতো যাকে স্বচ্ছন্দে ফেলে গেলে, ফেরবার পথ যার কোথাও খোলা রাখোনি, সে সারদা আর নেই, সে বিষ খেয়ে মরেচে। নিজের নয়—তোমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে। এ সারদা অন্য জন । তার পুনর্জন্মে তার পরে আর কারে দাবী নেই। শুনিয়া রাখাল স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল । সারদা বলিতে লাগিল, আপনার কি মনে নেই দেবতা, হাসপাতালে বিরক্ত হয়ে আপনি বার বার জিজ্ঞাসা করেচেন, তুমি কোথায় যেতে চাও, উত্তরে আমি বার বার কেঁদে বলেচি, আমার যাবার জায়গা কোথাও নেই। শুধু একটা স্থান ছিল—সেইখানেই চলেছিলুম–কিন্তু মাঝ পথে সেই পথটাই দিলেন আপনি বন্ধ করে। কিছুক্ষণ উভয়ের নিঃশব্দে কাটিল। রাখাল বলিল, জীবনবাবুকে চোখে দেখিনি, শুধু বাড়ির লোকের মুখে তার নাম শুনেচি । তিনি কি তোমার স্বামী নন ? সবই মিথ্যে ? ই, সবই মিথ্যে । তিনি আমার স্বামী নন। তবে কি তুমি বিধবা ? ই, আমি বিধবা । আবার কিছুকাল নীরবে কাটিল । সারদা জিজ্ঞাসা করিল, আমার কাহিনী শুনে কি আমার ওপর আপনার ঘূণা জন্মালো ? রাখাল কহিল, না সারদা, আমি অতো অবুঝ নই। তোমার চেয়ে ঢের বেশি অপরাধ করেছিলেন নতুন-ম, আমি তাকেও ঘৃণা করিনি। কিন্তু বলিয়া ফেলিয়াই সে অত্যন্ত লজ্জার সঙ্গে চুপ করিল। তখনই বুঝিল এ অনধিকার-চর্চ, এ তাহার আপন অপমান। একি বিত্র কটু কথা মুখ দিয়া তাহার হঠাৎ বাহির হইয়া গেল! সারদ্ধা বলিল, নতুন-ম। আপনাকে মায়ের মতো মানুষ করেছিলেন— রাখাল কহিল, ই, তিনি আমার মা-ই তো । এই বলিয়া প্রসঙ্গটা সে তাড়াতাড়ি চাপা দিয়া কহিল, তোমার মা-বাপ আত্মীয়-স্বজন আছেন কি-না বলতে চাও না, অস্তুত র্তাদের কাছে যে যাবে না এ আমি নিশ্চয় বুঝেচি, কি এখন করবে ? সারদা বলিল, যা করচি তাই। নতুন-মার কাজ করবো । ১ংe