প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কিন্তু এ কি তোমার চিরকাল ভালো লাগবে সারদা ? সারদা বলিল, দাসীবৃত্তি তো নয়—মায়ের সেবা । অন্ততঃ বহুকাল ভালে লাগৰে এ আমি জানি । রাখাল বলিল, কিন্তু বহুকালের পরেও একটা কাল থাকে বাকী, তখন নিজের পায়ে দাড়াতে হয়, তাতে টাকার দরকার । নিছক সেবা করেই সেই-সমস্যার মীমাংসা হয় না । সারদা বলিল, যত টাকার দরকার হোক, আপনার কেরানীগিরি করতে আমি পারবো না। বরঞ্চ ছোট একখানি চিঠি লিখে ফেলে রাখবো বিছানার, কেউ একজন তা পড়ে টাকা লুকিয়ে রেখে যাবে আমার বালিশের নীচে। তাতেই আমার অভাব মিটবে। রাখাল হাসিয়া বলিল, সে তো ভিক্ষে নেওয়া । সারদাও হাসিয়া বলিল, ভিক্ষেই নেবো। কেউ তা জানবে না—ঘুষ দিয়ে লোকে বলে না—আমার লজ্জা কিসের ? রাখালের আবার ইচ্ছা হইল হাত ধরিয়া তাহাকে কাছে টানিয়া আনে এবং এই ধৃষ্টতার জন্য শাস্তি দেয় ; কিন্তু আবার সাহসে বাধিল—সময় উত্তীর্ণ হইয়া গেল । ঝি বাহির হইতে সাড়া দিয়া বলিল, দিদিমণি, মা ডাকচেন তোমাকে । মায় আহ্নিক কি শেষ হয়েচে ? ই, হয়েচে ; বলিয়া ঝি চলিয়া গেল । সারদা কহিল, আপনি যাবেন না মার সঙ্গে দেখা করতে ? রাখাল কহিল, তুমি যাও, আমি পরে যাবো । পরে কেন ? চলুন না দুজনে একসঙ্গে যাই । বলিয়া সে চাপ-হাসির একটা তরঙ্গ তুলিয়া দ্বার খুলিয়া দ্রুতবেগে প্রস্থান করিল। রাখাল চোখ বুজিয়া বিছানায় শুইয়া পড়িল । মনে হইল ঘরখানি সে রসে, মাধুর্য্যে নিবিড় হইয়া উঠিল, সজীব মানুষের হাতের মতো সে তাহাকে সকল অঙ্গে স্পর্শ করিয়াছে, কতদিনের পরিচিত এই সামান্ত গৃহখানির আজ যেন আর রহস্তের অন্ত নাই । তাহার দেহ-মনে আজ এ কিসের আকুলতা, কিসের স্পন্দন ? বক্ষের নিগুঢ় অন্তস্তলে এ কে কথা কয় ? কি বলে ? স্বর অস্ফুটে কানে জালে, ভাষা বুঝা যায় না কেন ? কত শত মেয়েকে সে চেনে, কতদিনের কত আনন্দোৎসব তাহাদের সাহচধ্যে গল্পে-গানে হাসিতে কৌতুকে অবসিত হইয়াছে, তাহার স্থতি আজো অবলুপ্ত হয় নাই —মনের কোণে খুজিলে আজো দেখা মিলে, কিন্তু সারদার—এই একটিমাত্র মেয়ের মুখের কথায় যে বিস্ময় আজ মূৰ্ত্তিতে উদ্ভাসিয়া উঠিল, এ জীবনের অভিজ্ঞতায় কোথায় 》文$