প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় তাহার তুলনা ? এই কি নারীর প্রণয়ের রূপ ? তাছার ত্রিশ বর্ষ বয়সে সে অজানার জাজই কি প্রথম দেখা মিলিল ? এরই কি জয়গানের অস্ত নাই ? এরই কলঙ্ক গাহিয়া আজও কি শেষ করা গেল না ? কিন্তু ভুল নাই, ভুল নাই—সারদার মুখের কথায় ভুল বুঝিবার অবকাশ নাই। এমন স্বনিশ্চিত নিঃসংশয়ে সে আপনি আসিয়া কাছে দাড়াইল, তাহাকে না বলিয়া ফিরাইবে সে কিসের সঙ্কোচে, কোন বৃহত্তরের আশায় ? কিন্তু তবু দ্বিধা জাগে, মন পিছু হটিতে চায়। সংস্কার কুষ্ঠা জানাইয়া বলে, সারদা বিধবা, সারদা নিন্দিত, স্বৈরাচারের কলঙ্ক-প্রলেপে সে মলিন । বন্ধু-সমাজে স্ত্রী বলিয়া পরিচয় দিবে সে কোন দুঃসাহসে ? আবার তখনি মনে পড়ে প্রথম দিনের কথা—সেই হাসপাতালে যাওয়া । মৃতকল্প নারীর পাংশু পাণ্ডুর মুখ, মরণের নীল ছায় তাহার ওষ্ঠে, কপালে, নিমীলিত চোখের পাতায় পাতায়—গাড়ির বন্ধ দরজার ফাক দিয়া আসে পথের আলো— তার পরে যমে-মানুষে সে কি লড়াই ! কি দুঃখে সেই প্রাণ ফিরিয়া পাওয়া ! এ-সব কথা ভুলিবে রাখাল কি করিয়া ? কি করিয়া ভুলিবে যে তাহার হাতে সারদার সমস্ত সমর্পণ । সেই দু'চোখের জল যুছিয়া বলা—আর আমি মরবো না দেবতা আপনার হুকুম না নিয়ে । সেদিন জবাবে রাখাল বলিয়াছিল—অঙ্গীকার মনে থাকে যেন চিরদিন । সেই দাসী আসিয়া বলিল, রাজুবাবু, মা ডাকচেন আপনাকে । আমাকে ? চকিত হইয়া রাখাল উঠিয়া বসিল । হাত দিয়া দেখিল চোখের জল গড়াইয়া বালিশের অনেকখানি ভিজিয়া উঠিয়াছে, তাড়াতাড়ি সেঠা উন্টাইয়া রাখিয়া সে উপরে গিয়া নতুন-মার পায়ের ধূলা লইয়া অদূরে উপবেশন করিল। এতদিন না আসার কথা, তাহার অস্ত্রখের কথা, কিছুই নতুন-মা উল্লেখ করিলেন না, শুধু স্নেহার্জ স্নিগ্ধ-কণ্ঠে প্রশ্ন করিলেন, ভালো আছো বাবা ? রাখাল মাথা নাড়িয়া সায় দিয়া বলিল, একটা মস্ত বড় অপরাধ হয়ে গেছে মা আমাকে মার্জনা করতে হবে। কয়েকদিন জরে ভূগলুম, আপনাকে খৰর জিতে পারিনি । নতুন-যা কোন উত্তর না দিয়া নীরব হইয়া রছিলেন। রাখাল বলিতে লাগিল, ওটা ইচ্ছে করেও না, আপনাদের আঘাত দিতেও না। মনে পড়ে যা, একদিন যত জালাতন আমি করেচি তত আপনার রেণুও না। তার পরে হঠাৎ একদিন পৃথিবী গেল বদলে—সংসারে এত ঝড়-বাদল যে তোলা ছিল সে তখনি শুধু টের পেলুম। ঠাকুর-ঘরে গিয়ে কেঁদে বলতুম, গোবিন্দ, আর তো সইতে পারিনে, আমাদের মাকে ফিরিয়ে এনে দাও । আমার প্রার্থনা এতদিনে ঠাকুর মজুর করেচেন। আমার ‘লেই মাকেই করবো অসম্মান এমন কথা আপনি কি করে ভাবতে পারলেন মা ? ¥देदै