প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰছ শুনে নতুন-মা কি বললেন ? শুনে মা খুশীই হলেন । বললেন, তার মতো ছেলের গ্রামে পড়ে থাকা অস্তায় । থাকতে যেন না হয় এ তিনি করবেন। করবেন কি করে ? সারদা বলিল, শক্ত নয় তো দেবতা। মা বিমলবাবুকে বললে না হতে পারে এমন তো কিছু নেই। শুনিয়া রাখাল তাহার প্রতি চাহিয়া রহিল। অর্থাৎ জিজ্ঞাসা করিতে চাহিল ইহার তাৎপৰ্য্য কি ? সারদা বুঝিল আজও রাখাল কিছুই জানে না। বলিল, খাওয়া হয়ে গেছে, হাত ধুয়ে এসে বসুন, আমি বলচি । মিনিট-কয়েক পরে হাত-মুখ ধুইরা সে বিছানায় আসিল । সারদা তাহাকে জল দিল, পান দিল, তার পরে অদূরে মেঝের উপরে বসিয়া বলিল, রমণীবাবু চলে গেছেন আপনি জানেন ? চলে গেছেন ? কই না! কোথায় গেছেন ? কোথায় গেছেন সে তিনিই জানেন, কিন্তু এখানে আর আসেন না। যেতে র্তাকে হোতোই -এ ভার বইবার আর তার জোর ছিল না –কিন্তু গেলেন মিথ্যে ছল করে। এতখানি ছোট হয়ে বোধ করি আমার কাছ থেকে জীবনবাবুও যানি । এই বলিয়া সেদিন হইতে আজ পৰ্যন্ত আহুপূধিক সমস্ত ঘটনা বিবৃত করিয়া কহিল, এ ঘটতোই, কিন্তু উপলক্ষ হলেন আপনি । সেই যে রেণুর অসুখে পরের নামে টাকা ভিক্ষে চাইতে এলেন, আর না পেয়ে অভুক্ত চলে গেলেন, এ অন্যায় মাকে ভেঙে পড়লো, এ ব্যথা তিনি আজও ভুলতে পারলেন না। আমাকে ডেকে বললেন, সারদ, রাজুকে আজ আমার চাই-ই, নইলে বাঁচবো না। এসে তুমি আমার সঙ্গে। ষা-কিছু মায়ের ছিল পুটুলিতে বেঁধে নিয়ে আমরা লুকিয়ে গেলুম আপনার বাসায়, তার পরে গেলুম ব্ৰজবাবুর বাড়ি, কিন্তু সব খালি, সব শুষ্ঠ ! নোটিশ ঝুলছে বাড়ি ভাড়া দেবার। জানা গেল না কিছুই, বুঝা গেল শুধু কোথায় কোন অজানা গৃহে মেয়ে তার পীড়িত, অর্থ নেই ওষুধ দেবার, লোক নেই সেবা করার। হয়তে বেঁচে আছে, হয়তো নেই। অথচ উপায় নেই সেখানে যাবার-পথের চিহ্ন গেছে निःश्रष श्रुट्झ । মাকে নিয়ে এলুম। তখন বাইরের ঘরে চলেচে খাওয়া-দাওয়া নাচ-গান আনঙ্গকলরব । করবার কিছু নেই, কেবল বিছানায় শুয়ে দু'চোখ বেয়ে তার অবিরল জল পড়তে লাগলো। শিয়রে বসে নিঃশব্দে শুধু মাৰায় হাত বুলোতে লাগলুম— এ-ছাড়া সানা দেবার তাকে ছিলই বা আমার কি ? ४●९ '