প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় শুনিয়া বিমলবাবুও হাসিলেন, বলিলেন, ভয় তো আছেই। কিন্তু আমি সে হতে দেবো কেন ? দেবো না বলেই তো জানি, আর সেই তো আমার ভরসা। এতদিন নিজের খেয়াল আর বুদ্ধি দিয়েই চলে দেখলুম, এবার ভেবেচি তাদের ছুটি দেবো। দিয়ে দেখি কি মেলে, আর কোথায় গিয়ে দাড়াই। বিমলবাবু চুপ করিয়া রছিলেন। সবিতা বলিতে লাগিল, তুমি হয়ত ভাবচো হঠাৎ এ বৃদ্ধি দিলে কে ? কেউ দেয়নি। সেদিন তুমি চলে গেলে, বারানায় দাড়িয়ে দেখলুম পথের বঁাকে তোমার গাড়ি হোলো অদৃপ্ত, চোখের কাজ শেষ হোলো, কিন্তু মন নিলে তোমার পিছু। সঙ্গে কতদূর যে গেলো তার ঠিকানা নেই। ফিরে এসে ঘরে বসলুম—একলা নিজের মনে ছেলেবেলা থেকে সেই সে-দিন পৰ্যন্ত কত ভাবনাই এলো গেলো, হঠাৎ একসময় আমার মন কি বলে উঠলো জানো ? বললে, সবিতা, যৌবন গেছে, রূপ তো নেই! তবুও যদি উনি ভালোবেসে থাকেন তো সে সত্যি। সত্যি কখনো বঞ্চনা করে না—তাকে তোমার ভয় নেই। ষা নিজে মিথ্যে নয়, সে কিছুতে তোমার মাথায় মিথ্যে অকল্যাণ এনে দেবে না -তাকে বিশ্বাস করে । বিমলবাবু বলিলেন, তোমাকে সত্যিই ভালোবাসতে পারি, এ তুমি বিশ্বাস করে। নতুন-বোঁ ? স্থা করি। নইলে তো তোমার কোন দরকার ছিল না। আমার আর রূপ নেই। বিমলবাবু হাসিয়া বলিলেন, এমন তো হতে পারে আমার চোখে তোমার রূপের সীমা নেই। অথচ রূপ আমি সংসারে কম দেখিনি নতুন-বে। শুনিয়া সবিতাও হাসিলেন, বলিলেন, আশ্চর্ঘ্য মানুষ তুমি! এ-ছাড়া আর কি বলবো তোমাকে ? বিমলবাবু বলিলেন, তুমি নিজেও কম আশ্চৰ্য নয় নতুন-বোঁ ! এই তো সেদিন এমন ক’রে ঠকলে, এতবড় আঘাত পেলে, তবু যে কি করে এত শীঘ্র আমাকে বিশ্বাস করলে আমি তাই শুধু ভাবি ! সবিতা কহিলেন, আঘাত পেয়েচি সত্য, কিন্তু ঠকিনি। কুয়াশার আড়ালে একটানা দিনগুলো অবাধে বয়ে যাচ্ছিল এই তোমরা দেখেচো। হয়ত এমনিই চিরদিনই বয়ে যেতো—যাবজ্জীবন দণ্ডিত কয়েরি জীবন যেমন কেটে যায় জেলের মধ্যে, কিন্তু হঠাৎ উঠলে ঝড়, কুয়াশা গেল কেটে, জেলের প্রাচীর পঞ্চলে ভেঙে। বেরিয়ে এলুম অজানা পথের পরে, কিন্তু কোথায় ছিলে তুমি অপরিচিত বন্ধু, হাত বাড়িয়ে দিলে। একে কি ঠক বলে ? কিন্তু কি বলে তোমাকে ডাকি বলে তো ? আমার নামটা বুঝি বলতে চাও না ? וקול