প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মা, মূখে বাধে। - বিমলবাৰু বলিলেন, ছেলেবেলায় আমার একটা নাম ছিল দিদিমার দেওয়া । তার ইতিহাস আছে ; কিন্তু সে নামটা ষে তোমার মুখে জারো বেশি ৰাখবে নতুনৰে। কি বলে তো, দেখি যদি মনে ধরে। বিমলবাবু হাসিয়া বলিলেন, পাড়ায় তারা ডাকতো আমায় দয়াময় বলে। সবিতা বলিলেন, নামের ইতিহাস জানতে চাইনে—সে আমি বানিয়ে নেৰো । ভারি পছন্দ হয়েচে নামটি -এখন থেকে আমিও ডাকবো দয়াময় বলে। বিমলবাবু বলিলেন, তাই ডেকে । কিন্তু যা জিজ্ঞেস করেছিলুম সে তো বললে না 7 কি জিজ্ঞেস করেছিলে দয়াময় ? এত শীঘ্র আমাকে ভালোবাসলে কি করে ? সবিতা ক্ষণকাল তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া থাকিয়া কছিলেন, ভালোবালি এ কৰা তো বলিনি। বলেচি তুমি বন্ধু, তোমাকে বিশ্বাস করি। বলেচি, ষে ভালোবাসে তার হাত থেকে কখনো অকল্যাণ আসে না। উভয়েই ক্ষণকাল স্তন্ধ হইয়া রছিলেন। সবিতা কুষ্ঠিত-স্বরে কহিলেন, কিন্তু, আমার কথা গুনে চুপ করে রইলে যে তুমি ? কিছু বললে না তো ? বিমলবাবু প্রত্যুত্তরে একটুখানি শুষ্ক হাসিয়া বলিলেন, বলবার কিছুই নেই নতুনবে - তুমি ঠিক কথাই বলচো। ভালোবাসার ধনকে সত্যিই কেউ আপন হাতে অমঙ্গল এনে দিতে পারে না । তার নিজের দুঃখ যতই হোক না, সইতে তাকে হবেই। সবিতা কহিলেন, কেবল সইতে পারাই তো নয় । তুমি দুঃখ পেলে জামিও পাৰে৷ ক্ষে । বিমলবাৰু আবার একটু হাসিয়া বলিলেন, পাওয়া উচিত নয় নতুন-বোঁ । ভৰু যদি পাও, তখন এই কথা ভেবে যে, অকল্যাণের দুঃখ এর চেয়েও বেশি। এ-কথা তো তোমার পক্ষে খাটে দয়াময় ? না, খাটে না। তার কারণ, জামার মনের মধ্যে তুমি কল্যাণের প্রতিমূৰ্ত্তি, কিন্তু তোমার কাছে জামি তা নয়। হতেও পারিনে। কিন্তু সেজন্তে তোমাকে দোষও দিইনে, অভিমানও করিনে, জানি নানা কারণে এমনই জগৎ । তুমি এলে জামারবিগত দিনের ক্রট যেতো ঘুচে, ভবিষ্কং হোতে উজ্জল, মধুর শাভ, তার কল্যাণ ব্যাপ্ত হোতে নানাদিকে—আমাকে করে তুলতে অনেক বড়— কিন্তু জামি দাড়াবো কোনখানে ?