প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় তুমি নিজে দাড়াবে কোন্ধানে ? বিমলবাবু একেবারে শুদ্ধ হইয়া গেলেন। কয়েক মুহূৰ্ত্ত স্থির থাকিয়া ধীরে ধীরে বলিলেন, সে-ও বুঝতে পারি নতুন-বে। —তুমি হয়ে স্বাবে অপরের চোখে ছোট, তারা বলবে তোমাকে লোতী,বলৰে—আরও যে সব কথা তা ভাবতেও আমার লজ্জা করে। অথচ একান্ড বিশ্বাসে জানি একটি কথাও তার সত্য নয়, তার থেকে তুমি অনেক দূরে—অনেক উপরে। সবিতার চোখ সজল হইয়া আসিল । এমন সময়েও যে-লোক মিথ্যা বলিতে পারিল না, তাহার প্রতি শ্রদ্ধায় কৃতজ্ঞতার পরিপূর্ণ হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, দয়াময়, আমি আনবো তোমার জীবনে পরিপূর্ণ কল্যাণ, আর তুমি এনে দেবে আমাকে তেমনি পরিপূর্ণ অকল্যাণ—এমন বিপরীত ঘটনা কি ক’রে সত্য হয় ? কি এর छेख्द्र ! বিমলবাবু বলিলেন, এর উত্তর আমার দেবার নয় নতুন-বে। আমার কাছে এই আমার বিশ্বাস । তোমার কাছেও এমনি বিশ্বাস যদি কখনো সত্য হয়ে দেখা দেয়, তখন কেবল মনের দ্বন্দ্ব যুচবে, এর উত্তর পাবে - তার আগে নয়। সবিতা কহিলেন, উত্তর যদি কখনো না পাই, সংশয় যদি নাম্বোচে, তোমার বিশ্বাস এবং আমার বিশ্বাস যদি চিরদিন এমনি উণ্টে মুখেই বয়, তবু তুমি আমার ভার বয়ে বেড়াবে ? বিমলবাবু বলিলেন, যদি উণ্টে মুখেই বয়, তবু তোমাকে আমি দোষ দেবে না। তোমার ভার আজ আমার ঐশ্বর্ঘ্যের প্রাচুর্ঘ্য, আমার আনন্দর সেবা । কিন্তু এ ঐশ্বৰ্য্য যদি ৰখনে ক্লাস্তির বোঝা হয়ে দেখা দেয়, সেদিন তোমার কাছে আমি ছুটি চাইবো । আবেদন মঞ্জুর করে, বন্ধুর মতোই বিদায় নিয়ে ষাবো- কোথাও মালিন্তের চিহ্নমাত্র রেখে যাবে না, তোমার কাছে এই শপথ করলাম নতুন বে। সবিতা তাহার মুখের পানে চাহিয়া স্থির হইয়া রছিলেন। মিনিট দুই-তিন পরে বিমলবাবু স্নান হাসিয়া বলিলেন, কি ভাবছো বলে তো ? ভাবচি সংসারে এমন ভয়ানক সমস্যার উদ্ভব হয় কেন ? একের ভালবাসা যেখানে অপরিসীম অপরে তাকে গ্রহণ করবার পথ খুজে পায় না কেন ? বিমলবাবু হাসিয়া বলিলেন, খোজা সত্যি হলেই তবে পথচোখে পড়ে, তার আগে নয়। নইলে অন্ধকারে কেবলি হাতড়ে মরতে হয় । সংসারে এ পরীক্ষা জামাকে ৰহবার দিতে হয়েচে । পথের সন্ধান পেয়েছিলে ? ই ! প্রার্থনায় যেখানে কপটতা ছিল না, সেখানে পেয়েছিলাম। তার মানে ? মানে এই ষে, ষে-কামনায় দ্বিধা নেই, দুর্বলতা নেই, তাকে না-মঞ্জুর করার শক্তি ృtణ