প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


cभाषब नबिक्रब्र সারদা তাহার মুখের পানে চাহিয়া রহিল, তারপরে বলিল, না, এ সত্যি নয়— কোনমতেই সত্যি নয়। আমাকে বারণ করুন দেবতা, আমি মাকে গিয়ে বলে আসি, আমার হরিণপুরে যাওয়া হবে না, দেবতা নিষেধ করেচেন। ইহারও প্রত্যুত্তরে রাখাল মূঢ়ের মতো জবাব দিল, না, তোমাকে নিষেধ করতে আমি পারবো না । সে অধিকার আমার নেই । সারদ বলিল, ছিল অধিকার ; কিন্তু এখন এই কথাই বলবো যে, চিরদিন কেবল পরের হুকুম মেনে মেনে আজ নিজে হুকুম করার শক্তি হারিয়েছেন। এখন বিশ্বাস গেছে মুচে, ভরসা গেছে নিজের পরে। ষে-লোক দাবী করতে ভয় পায়, পরের দাবী মেটাতেই তার জীবন কাটে। শুভাকাজিহ্মণী সারদার এই কথাটা মনে রাখবেন। এ তুমি কাকে বলচে ? আমাকে ? ই, আপনাকেই । রাখাল কহিল, পারি মনে রাখবো ; কিন্তু জিজ্ঞেস করি তোমাকে বারণ করাষ্ট্র আমার লাভ কি ? এ যদি বোঝাতে পারো হয়তো এখনও তোমাকে সত্যিই বারণ করতে পারি। ..! সারদা বলিল, স্বেচ্ছায় আপনার বহুত স্বীকার করতে একজনও ষে সংসারে আছে, এই সত্যিটা জানতেও কি ইচ্ছে করে না ? জেনে কি হবে ? সারদা তাহার মুখের প্রতি ক্ষণকাল চাহিয়া থাকিয়া বলিল, হয়তো কিছুই হবে না। হয়তো আমারও সময় এসেচে বোঝবার । তবু একটা কথা বলি দেবতা, অকারণে নিৰ্ম্মম হতে পারাটাই পুরুষের পৌরুষ নয়। রাখাল জবাব দিল, সে আমিও জানি ; কিন্তু অকারণে অতি-কোমলতাও আমার প্রকৃতি নয়। এই বলিয়া সে কিছুক্ষণ স্থির থাকিয়া অধিকতর রূক্ষ-কণ্ঠে কছিল, দেখো সারদা, হাসপাতালে ষেদিন তোমার চৈতন্য ফিরে এলো, তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে, সেদিনকার কথা মনে পড়ে কিছু ? তুমি ছলনা করে জানালে তুমি অল্পশিক্ষিত সহজ সরল পল্লীগ্রামের মেয়ে, নিঃস্ব ভদ্র-ম্বরের বে। বললে, আমি না বাচালে তোমার বঁাচার উপায় নেই। তোমাকে অবিশ্বাস করিনি। সেদিন আমার সাধ্যে যেটুকু ছিল অস্বীকারও করিনি ; কিন্তু আজ সে-সব তোমার হাসির জিনিস। তাদের অবহেলায় ফেলে দিলে। আজ এসেছেন বিমলবাবু—ঐশ্বর্ধ্যের সীমা নেই ধার— এসেচে তারক, এলেচেন নতুন-মা। সেদিনের কিছুই বাকী নেই আর । এ ছলনার কি প্রয়োজন ছিল বল তো ? অভিযোগ গুনিয়া সারা বিস্ময়ে অভিভূত হইয়া গেল। তার পরে আস্তে আস্তে বলিল, আমার কথায় মিধ্যে ছিল, কিন্তু ছলনা ছিল না দেবতা। সে মিথ্যেও গুৰু 38t