প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মেয়েমানুষ বলে। তার লজ্জা ঢাকৃতে । একেই যখন আমার চরিত্র বলে আপনিও ভুল করলেন তখন আর আমি ভিক্ষে চাইবো না। কাল মা আমাকে কিছু টাকা দিয়েচেন জিনিস-পত্র কিনতে । আমার কিন্তু দরকার নেই। যে টাকাগুলো আপনি দিয়েছিলেন সে কি ফিরিন্থে দেবো ? রাখাল কঠিন হইয়া বলিল, তোমার ইচ্ছে । কিন্তু পেলে আমার সুবিধে হয়। আমি বড়লোক নই সারদা, খুবই গরীব সে তুমি জানো। সারদা বালিশের তলা হইতে কমাল বাধা টাকা বাহির করিয়া গনিয়া রাখালের হাতে দিয়া বলিল, তা হলে এই নিন। কিন্তু টাকা দিয়ে আপনার ঋণ পরিশোধ হয় এত নিৰ্ব্বোধ আমি নই। তবু বিনা দোষে যে দও আমাকে দিলেন সে অস্তায় আর একদিন আপনাকে বিধবে । কিছুতে পরিত্রাণ পাবেন না বলে দিলুম। রাখাল কহিল, আর কিছু বলবে ? না । তা হলে যাই । রাত হয়েচে । প্রণাম করিতে গিয়া সারদা হঠাৎ তাহার পায়ের উপর মাথা রাখিয়া কাদিয়া কেলিল। তার পরে নিজের চোখ মুছিয়া উঠিয়া দাড়াইল । চললুম। সারদা বলিল, আসুন । পথে বাহির হইয়া রাখাল ভাবিয়া পাইল না এইমাত্র সে পুরুষের অযোগ্য যে-সকল মান-অভিমানের পালা সাঙ্গ করিয়া আসিল কিসের জন্য ! কিসের জন্য এই-সব রাগারাগি ? কি করিয়াছে সারদা ? তাহার অপরাধ নির্দেশ করাও যেমন কঠিন, তাহার নিজের জালা ষে কোন্‌খানে, অঙ্গুলি সঙ্কেতও তেমনি শক্ত। রাধালের অন্তর আঘাত করিয়া তাহাকে বারে বারে বলিতে লাগিল, সারদা ভদ্র, সারদা বুদ্ধিমতী, সারদার মতে রূপ সহজে চোখে পড়ে না। সারদ। তাহার কাছে যে কৃতজ্ঞ তাহা বহুবার বহু প্রকারে জানাইতে বাকী রাখে নাই। পায়ের পরে মাথা পাতিয়া আজও জানাইতে সে ক্রটি করে নাই। আরও একটা কি যেন সে বারংবার আভাসে জানায়, হয়তো তাহার অর্থ শুধু কৃতজ্ঞতাই নয়, হয়তো সে জারও গভীর আরও বড়। হয়তো সে ভালোবাসা । রাধালের মনের ভিতরটা সংশয়ে দুলিয়া উঠিল ! বহুদিন বহু মারীর সংস্পর্শে সে বহুভাবে আসিয়াছে, কিন্তু কোন মেয়ে কোনদিন তাহাকে ভালোবাসিয়াছে, এ-বস্তু এমনি অভাবিত ষে, সে আজ প্রায় অসম্ভবের কোঠায় গিয়া উঠিয়াছে। আজ সেই বস্তুই কি সারদা তাহাকে দিতে চায় ? কিন্তু গ্রহণ করিবে সে কোন লজ্জায় । সারা বিধৰা, সারা নিন্দিত কুলত্যাগিনী, এ প্রেমে না জাছে bo