প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় তারককে সারা যদি ষত্ব আদর করে, তাহাতে রাখালের ক্ষুব্ধ হুইবার কি আছে। সারদার নিকট রাখালও ষে, তারকও সে । বরং রাখাল অপেক্ষ তারক বিজ্ঞান, বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ । তাহার এইসকল গুণেরই সেদিন উল্লেখ করিয়াছিল সারদা, তাহাতে এমন কি অপরাধ সে করিয়াছে যাহার জন্ত রাখাল অমন জলিয়া উঠিল ? কেন সে অকস্মাৎ নিজেকে বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত অনুভব করিল ? ভাবিতে ভাবিতে মুখ চোখ ও কান উত্তপ্ত হইয়া জালা করিতে লাগিল। নিকটস্থ একটা পার্কের মধ্যে প্রবেশ করিয়া নিরিবিলি কোণের একটি শুষ্ক বেঞ্চিতে রাখাল সটান গুইয়া পড়িল । চোখ বুজিয়া ভাবিতে লাগিল, দিন দুই-তিন পূৰ্ব্বে এস্প্ল্যানেডের মোক্ষে সে ট্রামের জন্য অপেক্ষা করিতেছিল। একখানি চলন্ত মোটর হইতে ঝুঁকিয় বিমলবাবু হাত নাড়িয়া তাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিলেন। রাখাল বিমলবাবুর পানে তাকাইলে তিনি মোটর থামাইয়া হাত ইসারায় তাহাকে নিকটে ডাকিয়া গাড়ি হইতে রাস্তায় নামিয়া পড়িয়াছিলেন । রাখাল নিকটে গেলে বিমলবাবু সৰ্ব্বপ্রথম প্রশ্ন করেন— তোমার কাকাবাবুর ও রেণুর চিঠিপত্র পেয়েচো কি রাজু ? অতিমাত্রায় বিস্মিত হইয়া রাখাল বলিয়াছিল, কেন বলুন তো ? বিমলবাবু বলিলেন, তার সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। দেশে গিয়ে তারা কেমন আছেন খবর পাইনি, তাই তোমাকে জিজ্ঞেসা করচি । রাখাল জবাব দিয়াছিল, তারা ভালই আছেন । বিমলবাবু বলিয়াছিলেন, তুমি কবে চিঠি পেয়েচ ? সে উত্তর দিয়াছিল, দিন-চারেক হবে। তার পর মৌখিক সৌজন্তে বিমলবাবুকে প্রশ্ন করিয়াছিল, আপনি কোনদিকে চলেছেন ? বিমলবাবু উত্তর দিয়েছিলেন, একবার সারদা-মার খোজ নিতে যাচ্ছি। ইহাতে অতিমাত্রায় বিস্ময়াপল্প হইয়া সে অকস্মাৎ প্রশ্ন করিয়া ফেলিয়াছিল, কোন সারদা ? বিমলবাবু ঈষৎ আশ্চৰ্য্য হইয়া জবাব দিয়াছিলেন, সারদাকে তো তুমি চেনে। রাখাল শুষ্ককণ্ঠে বলিয়াছিল, সে তো এখানে নেই। নতুন-মার সঙ্গে হরিণপুরে তারকের কাছে গেছে । বিমলবাবু বলিয়াছিলেন, সে কি ! তুমি কি জানো না সারদা তোমার নতুন-মার সঙ্গে হরিণপুরে যায়নি ? রাখাল উত্তর দিয়াছিল, না ! এ-খবর আমি শুনিনি। আমি তাদের স্বাবার জাগের দিন রাত্রি পর্যন্ত সারদার সেখানে যাওয়াই স্থির দেখে এসেছিলাম । বিমলবাবু বলিয়াছিলেন, তাই স্থির ছিল বটে, কিন্তু আমি স্টেশনে গিয়ে দেখলাম רשל